বরগুনাঃ জাল সনদধারী অধ্যক্ষ ফোরকান মিয়ার একের পর এক মিথ্যা মামলায় জেলার আমতলীর বকুলনেছা মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সাত মাস ধরে বেতনভাতা পাচ্ছেন না। এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতন জীবনযাপন করছেন। কলেজের পাঠদানও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ফোরকান মিয়া ১৯৯৯ সালে বিএ পাসের জাল সনদ দিয়ে আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক পদে চাকরি নেন। ২০১০ সালে তিনি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হন। অধ্যক্ষ হওয়ার তিন বছরের মাথায় ২০১৩ সালে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে তিনি স্বেচ্ছায় কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ৮ বছর ফোরকান কলেজে দায়িত্ব থেকে দূরে ছিলেন। ২০২১ সালের ১২ জুলাই ফোরকান মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবারো কলেজের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। ওই বছর ২৬ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে পুনরায় বরখাস্ত করে সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক ফেরসৌসি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। কলেজ কমিটির বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফোরকান গত বছর ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে মামলা করে চিঠির স্থাগিতাদেশ চান। কিন্তু আদালতের বিচারক কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ কলেজ কমিটির বরখাস্তের আদেশ স্থগিত না করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মতামত দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু কমিটি তাকে বরখাস্তের পরও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জবর দখল করে কলেজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে গত ২৬ মে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান মিয়ার অপসারণ ও বেতন ভাতার দাবীতে শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রীদের মানববন্ধনে হামলা করে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে বহিরাগতরা এতে চার শিক্ষক গুরুতর ৪ আহত হন।
মোঃ ফোরকান মিয়া আমতলী সরকারী কলেজে ১৯৯০-৯১ শিক্ষা বর্ষে বিএ শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালের ডিগ্রী পাস (অনুষ্ঠিত ১৯৯৩ সালে) নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। তার রেজিষ্ট্রশন নম্বর- ৫৩৭৫০ ও রোল নং- ৬৫৮। তিনি ওই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহন করলেও তার ফলাফল স্থগিত থাকে। কিন্তু তিনি জালিয়াতি করে ওই বছরই বিএ পাস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন এবং ওই সার্টিফিকেট দিয়েই বকুলনেছা মহিলা কলেজে চাকুরী নেন। কিন্তু আমতলী সরকারী কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়নি মর্মে ওই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান প্রত্যয়ন পত্র দেন।
আদালতে ফোরকান মিয়া তার আমতলী কলেজের ডিগ্রী পাসের সনদ অস্বীকার করে প্রিমিয়াম ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রী পাসের সনদ দাখিল করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে উক্ত সনদপত্রের সত্যতা যাচাই করতে গেলে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উপ-পরিচালক জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে জানান, প্রিমিয়াম ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নামক তথাকথিত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয় এবং অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিগ্রী গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৬/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
