এইমাত্র পাওয়া

উপহার না পেয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর, অনুষ্ঠানের মাইক ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনাঃ উপহার না দেয়ায় মাইক ভাংচুর, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ফেলা ও প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার (হাইস্কুল) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত কয়েক দফায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ওই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ছিল বৃহস্পতিবার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ স ম আব্দুর রহিম পাকন। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি খন্দকার আহমেদ শরীফ ডাবলু ও মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা এবং বক্তব্য দেয়ার পর প্রধান অতিথি পাকন এবং বিশেষ অতিথি ডাবলু অন্য অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য চলে যান। যাওয়ার আগে ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করবেন এমনটি তারা বলে যান।

এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে অতিথিদের উপহার দেয়া হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান থাকবেন জন্যই তাকে ওই সময়ে কোন পুরস্কার দেয়া হয়নি। এতে ইউপি চেয়ারম্যান মুন্তাজ ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠান থেকে চলে যান। পরে তার অনুসারীরা লোহার পাইপসহ সশস্ত্র অবস্থায় এসে অনুষ্ঠান চলাকালে মাইক ভাঙচুর ও বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে ফেলে। এ সময় তাদের ঠেকাতে গেলে তাদের এলোপাথাড়ি মারপিটে স্কুলের নাইটগার্ড আব্দুল আজিজসহ বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়।

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অভিভাবক সদস্য খন্দকার আতাউর রহমান বলেন, অনুষ্ঠান শেষে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বাসায় যাওয়ার সময়ে ইসলাম সাহেবের আড়তের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চেয়ারম্যানের পেটুয়া বাহিনী এসে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা করে বেধড়ক মারপিট করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে পেটুয়া বাহিনী চলে যায়। পরে প্রধান শিক্ষককে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে ওই পেটুয়া বাহিনী খেলা চলাকালে বিশৃংখলা করলে তাদের শাসিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী বলেন, এ অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরণের কোন ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, শুনেছি কিছু ছেলেপেলে খেলা দেখতে গেছিল। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আহমেদ শরীফ ডাবলুর ভাই খন্দকার আতাউর রহমান ও তার ভাই ভাতিজাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ঝামেলা হয়েছে। তারা কয়েকজনকে ধরে মারধরও করেছে। হয়তো এ বিরোধকে কেন্দ্রে করেই এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে।

তবে একাধিক সূত্র বলছে, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে ঢোকা, আধিপত্য বিস্তার, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অনাকাঙ্খিত ঘটনার সূত্র এই বিরোধগুলোকে ঘিরেই বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলু ও মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলীর মধ্যে কার নাম আগে যাবে এটি নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যান চলে যাবার পর তার পাঠানো বাহিনী অনুষ্ঠানস্থলে এসে তান্ডব চালায়। আবার সন্ধ্যার পরে আমাকে মারধর করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আহমেদ শরীফ ডাবলু বলেন, নাম আগে পিছে হলে কি এমন আসে যায়। ভুল হতেই পারে। এজন্য বাহিনী পাঠিয়ে ভাঙচুর চালাতে হবে, প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের মারধর করা ন্যাক্কারজনক। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুনেছি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কোন পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০২/২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.