এইমাত্র পাওয়া

রাবি অধ্যাপক ড. তাহের হত্যা: শুনানিতে যা বলছে আপিল বিভাগ

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যার শিকার হয়েছিলেন তারই সহকর্মী এক শিক্ষকের ষড়যন্ত্রে। সেই শিক্ষক হলেন ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. তাহেরের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত খুনি মহিউদ্দিনের ফাঁসি বহাল রেখেছেন আপিলের রায়ে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ পিটিশনের শুনানিতে মহিউদ্দিনের শাস্তি কমানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী। তখন আপিল বিভাগ বলেছে, ফাঁসি বহালের রায়ে ভুল কোথায়, সেটা দেখান। যদি রায়ের ভুলই দেখাতে না পারেন তাহলে কেন রি-কনসিডারের (পুনঃবিবেচনার বিষয়টি) আসবে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রিভিউ পিটিশনের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি বোরহানউদ্দিন, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম।

শুনানিতে মহিউদ্দিনের কৌসুলি অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান বলেন, এ হত্যা মামলার বিচার শুরুর আগে মহিউদ্দিন ১০ মাস কারাগারে ছিলেন। এরপর ২০০৮ সাল থেকে তিনি কনডেম সেলে রয়েছেন। সেই হিসাবে ১৫ বছর কনডেম সেলে আছেন। তার বয়স ৬০ বছর। কনডেম সেলে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি কমানোর আবেদন করছি। এ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির ফাঁসির দণ্ড কমানোর নজির তুলে ধরেন ওই আইনজীবী।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, একজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষককে হত্যার ষড়যন্ত্র করে মেরেছেন তারই সহকর্মী শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের অপরাধের সঙ্গে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন একজন ব্যক্তি বা রাস্তার একজন মাস্তানের অপরাধের তুলনা করার কী কোনো সুযোগ আছে।

মহিউদ্দিনের ফাঁসি বহালের আবেদন জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, আসামি পক্ষ আপিল বিভাগের ফাঁসি বহালের রায়ের কোনো ত্রুটি দেখাতে পারেননি। একজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষককে হত্যা করেছেন আরেকজন শিক্ষক। আর অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যায় বিচার করা। এ কারণে ওই ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে মহিউদ্দিনের ফাঁসি হ্রাস করার কোনো সুযোগ নাই। রিভিউ আবেদন খারিজ করা হোক। শুনানি শেষে আগামী বৃহস্পতিবার রিভিউর ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত। ওই দিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের রিভিউর ওপর আদেশ দেবে আপিল বিভাগ।

২০০৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কোয়ার্টারে অধ্যাপক ড. তাহেরকে হত্যা করেন খুনীরা। পরে তার লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হয়। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দু’জনকে খালাস দেয়। এর মধ্যে হাইকোর্ট মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি বহাল রাখে। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরের ভাই নাজমুল আলম ও তার আত্মীয় ছাত্র শিবিরের কর্মী আব্দুস সালামকে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০২/২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.