এইমাত্র পাওয়া

মনে চাইলে স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারীঃ জেলার ডিমলায় আটঘড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী স্বপনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। মাঝেমধ্যে এলেও কোনো ক্লাস নেন না। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ছয়জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪০।বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার সময় দায়িত্বে কেউ থাকেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্কুলে পাঠদান প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটছে। বছরের এক মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাস রুটিন করা হয়নি। ফলে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।

বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নেই। উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, প্রধান শিক্ষক সেদিন ছুটি নেননি।

সহকারী শিক্ষক কাদেরী সাবরিন বলেন, একজন সহকারী শিক্ষক ছুটি নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকসহ বাকি দুই শিক্ষক স্কুলে আসেননি।

অভিভাবক মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না এসেই মাস শেষে বেতন নেন। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করলেও লাভ হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে প্রাক্‌-প্রাথমিকের তেমন কার্যক্রম নেই। নিয়মিত পাঠদান করা হয় না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক স্বপন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলব না। আমার স্কুল নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?’

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ে দুই দিন পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে এক দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে ডেকে আনা হয়েছে।’

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অনেক অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০২/২৩    


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.