নিউজ ডেস্ক।।
গত এপ্রিলের শুরু থেকে দেশে বিভিন্ন নামে লকডাউন চলছে, তবে সারাদেশে যখন করোনা সংক্রমণে মৃত্যু বাড়ছে, তখন কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কলকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাটগুলোর সবই খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে কেন শিথিল করা হয়েছে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, অর্থনৈতিক কারণটাকে বিবেচনা করেই কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
সরকার করোনা সংক্রমণ হ্রাস করতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে লকডাউন তথা কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে। প্রথমে ছিল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় লকডাউন, তারপর জাতীয় পরিসরে সর্বাত্মক লকডাউন, এরপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং আরো কঠোরতর বিধিনিষেধ। অবশেষে বিভিন্ন নামের সেই অবসান ঘটছে এবার।
গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী বুধবার অর্থাৎ কাল থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন বা যানবাহনও চলাচল করবে। তবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরও জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৩ আগস্ট আন্তমন্ত্রণালয় সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, অর্থনৈতিক কারণটাকে বিবেচনা করেই কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে যখন করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিলো তখন বিধিনিষেধ দেয়া হয়। কিন্তু আজ নমুনা পরীক্ষায় ১১ হাজার শনাক্ত হয়েছে। মূলত বিধিনিষেধ থাকার কারণে একটা পর্যায়ে আসতে পেরছি। তবে আরো কিছুদিন ধরে রাখতে পারলে ভালো হতো।
আবারো বিধিনিষেধ দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, সকলের অর্থনৈতিক বিষয়টি বিবেচনা করেই বিধিনিষেধের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে, সবাইকে নিয়েই সরকার, তাই সবার কথাই ভাবতে হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের কর্মকাণ্ড করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আমাদের অবশ্যই তৎপরতা থাকবে। কিন্তু যদি সংক্রমণ বেড়ে যায় তাহলে সরকার প্রয়োজন মনে করলে আবারো বিধিনিষেধ দেবে।
বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখন পাটের সিজন চলছে, পাট কাটা হচ্ছে, পাট গাছগুলো পচাতে পানি দরকার। কৃষকরা সেই পানি কোথায় পাবে, সব জায়গায় তো আর পানি নেই, এজন্য ছোট একটা গর্ত করে পলিথিনি দিয়ে ঢেকে জৈবসার দিলে পাট পঁচে ভালো একটা রং আসবে। এজন্য তো দোকান খোলা খাকতে হবে। বিপনন করতে গাড়িরও প্রয়োজন হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
