করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। কয়েক কোটি শিক্ষা সাথে জড়িত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ই দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছে।
কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় তারা পাঠ্যবই থেকেই দূরে রয়েছে। শিক্ষায় এই অনাকাঙ্খিত পরিবেশ ইতিপূর্বে কোনোদিন হয়নি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দাড়িয়ে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে দেশের ৫০ তম বাজেট। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বাজেটের আকার প্রতিবছরই বড় হচ্ছে।
দেশ ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের দ্বারপ্রান্তে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আরেকটি বাজেট। এমন এক পরিস্থিতিতে এই বাজেট ঘোষিত হতে যাচ্ছে যখন সারা বিশ^ই করোনার মহামারীর স্বীকার। গত বছর থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস প্রাণহানি ঘটাচ্ছে।
মানুষের জীবিকায় ফেলেছে মারাত্বক প্রভাব। শিক্ষা, শিল্প,বাণিজ্য বারবার স্থবির হয়েছে। চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছে বহু মানুষ। সুতরাং এবারের বাজেট গতবারের থেকেও চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি সেক্টরে ক্ষতির প্রভাব রয়েছে। অর্থনীতি চাঙ্গা করা হবে এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের বাজেটে রয়েছে বিপর্যস্থ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা।
এবার বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা যা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই বাজেট হতে যাচ্ছে বিশাল একটি বাজেট। এবং এর বাস্তবায়ন অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার বাজেট ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার।
বাজেট একটি দেশের আশা আকাঙ্খার প্রতীক। বাজেট প্রনয়ণ নয় বরং বাজেট বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ হয় সরকারের জন্য। প্রান্তিক জনসাধারণের কাছে বাজেটের সুফল পৌছানো এবং দেশকে গতিশীল অভিমুখে ধাবিত করাই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য থাকে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই বাজেট ঘোষিত হয়। অনেক সময়ই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাঁকির খবর আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই।
অবস্থাটা এমন যে সরকারকে ফাঁকি দিতে পারলেই লাভবান হওয়া যায়। অথচ একজন নাগরিক হিসেবে, সচেতন মানুষ হিসেবে নিজ থেকেই ট্যাক্স দেওয়া উচিত বলে মনে করি। বাজেট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই মিডিয়াসহ সর্বত্র বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। আসছে বাজেট কেমন হবে এবং বিগত বাজেট কেমন ছিল বা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়েই এসব আলোচনা চলে।
করোনাকালীন বাজেটে করোনা এবং করোনাসৃষ্ট সমস্যাগুলোই বেশি প্রাধান্য পাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা । শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। কারণ করোনার সময়ে আমরা ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছি ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব।
সবার জন্য অনলাইন শিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিভাইস এবং ইন্টারনেট অর্থাৎ প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রাথমিকে মিড ডে মিল বাস্তবায়ন করা যে কার্যক্রম করোনার পূর্বে আংশিকভাবে শুরুও হয়েছিল। বাল্যবিয়ের মতো পরিস্থিতি থেকে কন্যা শিশুদের রক্ষা করা।
২০১৯-২০ বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা যা জিডিপির মাত্র ২.১ শতাংশ। চলতি বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে শিক্ষাখাত পুরোপুরি বন্ধ আছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেবার চেষ্টা হচ্ছে। করোনা পরবর্তী সময়েই এ খাতে ফিরতে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। এ খাতকে মহাগুরুত্বপূর্ণ বলছি এ কারণে যে শিক্ষার থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হয় না বলেই আমার মনে হয়।
যতদিন শিক্ষাকে যুগোপযুগি এবং আন্তর্জাতিকমানের করা না যাবে ততদিন দেশ কাঙ্খিত সাফল্য পাবে না। ফলে এ খাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ তার জিডিপি’র যে অংশ ব্যয় করছে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিন্ম।
প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্থান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্থানও জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাতটিতে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের সব উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এসব অগ্রগতি শিক্ষাখাতে গতি আনবে। শিক্ষাখাতে এতসব সুখবর সত্তেও এই মহাজনগুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন। কারণ এই একটা খাত আরও অনেক খাতকে শক্তিশালী করতে পারে। আমরাও আশা করি এই খাতটি আরও বেশি বরাদ্দ পাক।
শিক্ষা এবং প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রত্যাশা করি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।
লেখক-
অলোক আচার্য
কলাম লেখক
পাবনা।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
