এইমাত্র পাওয়া

বেকারত্ব নয় হতাশা

আব্দুর রউফ।।

আমাদের দেশে বেকার শব্দের অর্থ হতাশা। সেই হতাশা থেকে অনেকেই নিজের জীবন বিসর্জন দিতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলে এই বেকাররা দেশের উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনাময় উপাদান বটে।

তবে আমাদের দেশের বেকারের সংজ্ঞা আমরা পরিবর্তন করে ফেলেছি। সেই সংজ্ঞা পরিবর্তনের জন্য আমাদের তথাকথিত প্রতিবেশী ও সমাজ দায়ী। তবে আমাদের দেশে একজন নাগরিক কতদিন বেকার থাকলে তাকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেকার বলা হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে একজন মানুষ ২৭ সপ্তাহ বেকার থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বেকার ধরা হয়।

তেমনিভাবে ইউরোপের দেশগুলোতে ১ বছরের বেশি সময় কেউ কাজ না পেলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশের জন্য একটি মানদণ্ড মাঝেমধ্যে অনুসরণ করে থাকে।

সেটি হচ্ছে, যারা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পান না, তাদের ছদ্ম বেকার বলে অবহিত করা হয়। এই সংজ্ঞাটির আওতায় যারা পড়ে, তারা খুব অল্প বেতনে চাকরি করে থাকেন।বাংলাদেশে বেকারদের টাকায় রাষ্ট্রের চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশের বেতন ভাতা চলে।

অন্যান্য দেশে যখন বেকার নাগরিকদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেকার ভাতা প্রদান করা হয়, আমাদের দেশে তখন নানা কৌশলে, চাকরির বিজ্ঞাপনের নামে কোটি কোটি টাকা বেকারদের নিকট থেকে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো একবারে যতগুলো পদ ফাঁকা আছে তার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় না, বরং পর্যায়ক্রমে স্বল্প কিছু সংখ্যক পদে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। এতে করে এক জন বেকার বারবার আবেদন করে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

শত হতাশার মধ্যেও আমরা স্বপ্ন দেখি। দেশের সরকার যদি চায় তাহলে এই বেকার হাতগুলো কাজে লাগিয়ে দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা বরাবর লক্ষণীয়। আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর পাঁচ-ছয় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স যায় বিদেশে|

আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে ১৬ বিলিয়ন ডলার| এ থেকে যে ধারণা পাওয়া যায়, তাহলো বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা কম নয়|

এই বিদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারতের। অথচ যে পদগুলোতে দেশের বেকার যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তুলে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না।

আমাদের সমাজে সরকারি চাকরিকে সোনার হরিণ হিসেবে অবহিত করে থাকি। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের পালটাতে হবে। এক জন বেকারের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে দেশের যে কোনো সেক্টরে কাজ করার।

বর্তমানে শুধু সরকারি চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা বা বেসরকারি অনেক সেক্টরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘরে বসে ফ্রি ল্যান্সিং করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। তাই সেই সেক্টরগুলোর জন্য নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এই দক্ষ নাগরিক তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

একমাত্র দক্ষ জনগোষ্ঠী পারে একটি দেশের পুরো চিত্রপট পালটায়ে দিতে। অথচ বাংলাদেশের এত বড় একটি অংশ বেকার সমাজ থাকার পরেও তাদের জনসম্পদে পরিণত করতে পারছে না। তাই সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, এই বেকারদের সম্পদে পরিণত করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তাই সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে বুঝা যায়, বেকার মানেই যে শুধু হতাশা এমনটি নয় বরং বেকার মানেও এক অপার সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক সেই প্রত্যাশা রইল।

  লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.