অনলাইন ডেস্ক ঃ
আগামী ২০২৩ সাল থেকে নবম এবং ২০২৪ সাল থেকে মাধ্যমিকে বিভাগ থাকবে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাঠ্যক্রমে এই বিষয়টি সংশোধন করছে। বিভাগ না থাকার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পরিমার্জিত পাঠ্যসূচিতে মাধ্যমিকের নবম ও দশম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী পড়বে একই বই। এতে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা আলাদা করে বিষয় থাকবে না। সব শিক্ষার্থী সব ধরনের শিক্ষা নিয়ে মাধ্যমিক শেষ করবে।
বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষায় বৈষম্য থাকবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ মতো লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে। ছোটবেলা থেকেই চাপিয়ে দেওয়া বিভাগ শিক্ষার্থীর জীবন অসহনীয় করে তুলবে না। বিদ্যমান বৈষম্যমূলক শিক্ষা পদ্ধতির অবসান ঘটবে।
শিক্ষাবিদ ও তত্ত্বাবধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও দেশেই মাধ্যমিকে বিভাগ বিভাজন নেই। আমরা কেনও আগে থেকেই বিভাজন করে রেখেছি? শিক্ষানীতির নির্দেশনা ছিল বিভাজন থাকবে না, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে পাঠ্যক্রম যুগোপুযোগী করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কেনও একজন মানবিকের শিক্ষার্থী বিজ্ঞানের বিষয়গুলো জানবে না? কেনও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা মানবিকের বিষয়গুলো জানবে না? ২০১৭ সাল থেকেই পরিবর্তন আনার কথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য। যদি একটি সমন্বিত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে পড়ানো যায়, তাহলে বৈষম্য কমে আসবে। তবে এই ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
রাশেদা কে চৌধুরী তিনটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, ‘সবার আগে শিক্ষক তৈরি করতে হবে, পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক সাজাতে হবে, সঠিকভাবে সেটি করতে হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের সুফল পেতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
এই বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্যোগ। সব শিক্ষার্থী সমশিক্ষা অর্জন করবে। আগে যারা বিজ্ঞান পড়তো তারা মানবিকের বিষয় কিছুই জানতো না। আবার যারা মানবিকে পড়তো তারা বিজ্ঞানের কিছুই জানতো না। এখন এই বৈষম্য থাকবে না। একটি লেভেল পর্যন্ত সবাই সব কিছু জানবে। পৃথিবীতে মাধ্যমিকে সবার জন্য সমতাভিত্তিক শিক্ষা এখন লক্ষ্য। এর কোনও নেতিবাচক প্রভাবও নেই। ‘
তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝার সক্ষমতা তৈরি হয়, সে কী পড়তে পারবে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের আগে বিভাগ বিভাজনের প্রয়োজন নেই। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবক বা অন্যের কথায় বিভাগ নিয়ে শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত করেছে। সেটি অন্তত বন্ধ হবে।‘
রাজধানীর ধানমন্ডি গভর্মেন্ট বয়েজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অন্যান্য দেশে অনেক আগেই এটি করেছে। আমরা দেরিতে শুরু করছি। বিভাগ না থাকার বিষয়টি বেশি ভালো। কারণ অনেক সময় বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিষয় জোর করে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিতে হয়। বিভাগের শিক্ষার্থী সংকট মেটাতে অনেক প্রতিষ্ঠান এমন করে থাকে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব সরঞ্জাম থাকে না, অথচ বিজ্ঞানে অনেক শিক্ষার্থী থাকে।’
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘পাঠ্যক্রমের পুরো পর্যালোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরিই চূড়ান্ত রূপটি প্রকাশ করবো। সেখানে সব ধরনের শিক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা- এই বিভাগগুলো নবম-দশম শ্রেণিতে আর রাখছি না। সব শিক্ষার্থী সব ধরনের শিক্ষা নিয়ে স্কুলের ১০টি বছর শেষ করবে।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল বলেন, ‘বিজ্ঞান শিক্ষাকে শুধুমাত্র মেধাবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সকল শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে এসএসসি (মাধ্যমিক) পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা নিতে হবে। উন্নত বিশ্বে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে একই ধারায় পড়াশোনা করতে হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ে।’
শিক্ষাবার্তা/ বিআ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
