এইমাত্র পাওয়া

কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছেনা ডিমওয়ালা “মা” ইলিশ নিধন

বিন-ই-আমিনঃ

কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন। অন্য বছরের তুলনায় এবার যেন বেশি বেপরোয়া জেলেরা। ঝালকাঠির সুগন্ধা,বিষখালী ও বরিশালের কীর্তনখোলা, সর্বত্রই দিন-রাত ইলিশ শিকার করছে বহু জেলে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দফায় দফায় অভিযান চালিয়েও জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সফল হতে পারছেন না। প্রশাসন দিনরাত অভিযান করেও অসাধু ও দুষ্টচক্রের মৌসুমী জেলেদের মা ইলিশ নিধনের অপচেষ্টাকে পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না।

ইলিশ শিকারে মরিয়া এসব জেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে দফায় দফায় হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। চলমান পরিস্থিতিতে অভিযান চালানো প্রশ্নে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ার কথা বলেছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। সবকিছু মিলিয়ে দেশের ষষ্ঠ মৎস্য অভয়াশ্রম বরিশাল অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) মো.শাখাওয়াত হোসেন দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর অভিযান চালিয়েও সুগন্ধা নদীর আশপাশের সারদল,গৌরীপাশা,তিমিরকাঠী,দপদপিয়া,চরজাগুয়া এলাকার জেলেদের নৌকা ও কারেন্ট জাল জব্দ করেও মা ইলিশ নিধন বন্ধ করতে পারছেন না। অভিযান শুরুর আগেই জেলেরা তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের সাহসী এ অফিসার জানান,আমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে। ওরা এতো চতুর যে,আমরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই ওরা সরে পরে। গত ৩ দিনের অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০ টি নৌকা জব্দ করা হয়। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায়ও থেমে নেই মৎস্য অভিযান।

১৭ অক্টোবর রাতে হিজলা উপজেলার দেবুয়া এলাকায় অভিযান চলাকালে হামলা চালানো হয়। এতে নৌপুলিশের দুই সদস্য আহত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এখানে দুটি টহল টিম পাঠানো হয়। হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জের পাশাপাশি বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতেও ঘটেছে হামলার ঘটনা। ২০ অক্টোবর রাতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ দলে ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জিব সন্যামত। পুলিশের ১০ জন সদস্য নিয়ে অভিযানে যাওয়া এ দলের ওপর হামলা চালানো হয়। বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয় পুলিশ সদস্যসহ ২ জন।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে হামলা আর ধাওয়ার ঘটনা আরও বেশি। পরিস্থিতি এমন যে নদ-নদীতে অভিযানে যেতেই এখন ভয় পাচ্ছি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, যারা ইলিশ ধরছে তাদের সিংহভাগই মৌসুমি জেলে। প্রভাবশালীদের নেপথ্য ইন্ধনে এরা অর্থ আয়ের নেশায় নিষেধাজ্ঞার এ মৌসুমে মাছ ধরতে নামছে। নিয়মিত জেলে হলে তাদের অনেককেই আমরা চিনতে পারতাম। বরিশালে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত অভিযানিক দলের ওপর এভাবে হামলার ঘটনা এর আগে আর ঘটেনি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.