নিউজ ডেস্ক।।
বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত সকল ব্যাচকে সমান অধিকার প্রদান ও জাতীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বে-সরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (ঘঞজঈঅ) তে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১-১০ম, ১১তম, ১২তম, ১৩তম(নন রিটকারী), ১৪তম ও ১৫তম ব্যাচের গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষকেরা। তাছাড়া একই দাবী নিয়ে ও দ্রæত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সম্মিলিত সকল ব্যাচের পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী শিক্ষক ফোরাম।
আজ ১লা অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ১-১৫তম সকল ব্যাচের নিবন্ধিত শিক্ষকেরা তাদের ব্যাচের নিজ নিজ স্মারকলিপি ধারাবাহিকভাবে ঘঞজঈঅ এর চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবরে উপস্থাপন করে। এসময় সকল নিবন্ধনধারীরা প্রতি ব্যাচে এক একটি গ্রæপে ভাগ হয়ে তাদের ব্যাচের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করে।
উল্লেখ্য, ১৩তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের একক নিয়োগ প্রদানের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে নিবন্ধিত প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষকেরা তাদের ন্যায্য ও সমান অধিকার বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হতে থাকে। তার ফলশ্রæতিতে সকল ব্যাচের নিবন্ধিত শিক্ষকেরা আজকে স্মারকলিপি প্রদান করতে আসে।
সকল ব্যাচের নিবন্ধিত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একক কোন ব্যাচকে নিয়োগ প্রদানে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা কোনভাবেই ন্যায়সঙ্গত বা যৌক্তিক হবে না। তাছাড়া কোন ব্যাচের ছোট একটি অংশকে বিশেষ সুবিধা দিতে গেলে বিরাট একটা অংশকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। নিবন্ধিত সকলেই সমান ভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ন হয়েছে এবং মেধা তালিকায় স্থান নিশ্চিত করেছে। তাহলে কোন ব্যাচকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোন যুক্তিকতাই নেই। সবাইকে তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করে মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানে সুবিধা দেওয়ার দাবী তোলেন এসব নিবন্ধিতরা।
১০ম ব্যাচের এক নিবন্ধনধারী বলেন, “কোন ব্যাচের একক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত একেবারেই মেনে নেওয়া যাবে না। একই প্রতিষ্ঠানে দুই নিয়মে নিয়োগ কখনই মেনে নেব না আমরা। যদি দিতেই হয় সকলকেই বিশেষ সুবিধা দিতে হবে তা না হলে বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হতে হবে”।
১৪তম এক নিবন্ধনধারী বলেন, “১৩তম ও ১৪তম পরিপত্র একই তাহলে আমাদেরকেও একক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। তিনি আরও বলেন, এসব দিবা স্বপ্ন বাদ দিয়ে জাতীয় মেধা তালিকার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়াই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত”।
“১৩তম থেকে এখন পর্যন্ত সব পরিপত্র একই তাহলে ১৪, ১৫ সকল ব্যাচই তো একক নিয়োগ পাবে। সকলের নিয়োগ তাহলে নিশ্চিত করা হোক। আর ১৫তমদের যেভাবে উত্তীর্ন করানো হয়েছে তা অবিশ্বাস্য, এত কষ্ট করে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হবো তা কখনই মানবো না।” – এসব কথা বলেন ১৫তম কলেজ উত্তীর্ন এক নিবন্ধনধারী।
১৩তমদের জটিলতার জন্যে আমাদের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ধুলিাসাৎ হতে চলেছে বলে অভিযোগ করেন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের কাছাকাছি দুইজন নিবন্ধিত শিক্ষক।
নিবন্ধিত বিশাল জনগোষ্ঠীর হুমকি ও ঘঞজঈঅ এর জটিলতা বৃদ্ধি সহ তাদের কার্যক্রম স্থবির করতে এই কালো সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন এসব নিবন্ধিত শিক্ষকেরা। মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট ও ঘঞজঈঅ এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে মেধা তালিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
যত দ্রæত সম্ভব সুষ্ঠু সমাধান করে গণবিজ্ঞপ্তির যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছেন কর্মকর্তাবৃন্দ। সমঅধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের কাছে সবাই উত্তীর্ন, সবাই সমান অধিকার পাওয়ার অধিকার রাখে। আমরা যতদ্রæত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে এই জটিলতার একটা ভাল সমাধান বের করবো। সকলকে ভাল কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় ধৈর্য ধারন করতে বলেছেন তারা।
কর্মকর্তাদের আশ্বাসে নিবন্ধিত সকল ব্যাচের সদস্যরা কিছুদিন ধৈর্য ধারন করার প্রতিশ্রæতি দেন। তবে, এর কোন ব্যতিক্রম ঘটলে অর্থাৎ তাদের প্রাপ্য সমঅধিকার ও মেধা তালিকার অবমূল্যায়নের সমূহ সম্ভাবনা দেখলে কঠোর কর্মসূচী ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করার হুশিয়ারী প্রদান করেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
