মোঃ সান্ত আলী।।
বে-সরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সমগ্র বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে উপযুক্ত শিক্ষকদের সুপারিশ ও নিয়োগ প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে। সাম্প্রতিককালে শিক্ষক নিয়োগের ১ম ও ২য় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৫০হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, শিক্ষক নিয়োগের ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার লক্ষ্যে প্রায় ৬০ হাজার (৫৭৩৫৮টি) শিক্ষকের শূণ্যপদের চাহিদা নিয়ে সকল কার্যক্রম চুড়ান্ত পর্যায়ে রেখেও লক্ষাধিক নিবন্ধনধারীদের কাঙ্খিত ও বহুল প্রত্যাশিত ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি আজ পর্যন্ত প্রকাশ করে নি, বে-সরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) ।
গত ২১.৬.২০২০ইং তারিখে ১-১৫তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদল (NTRCA) এর চেয়ারম্যান এর সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিলি জমা দেয় এবং অতি দ্রুত ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার জোর দাবী জানায়। উক্ত সাক্ষাতের সময় চেয়ারম্যান এই মর্মে প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করে যে, “১৩ তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের হাইকোর্টে চলমান মামলার রায়ের পর্যবেক্ষন কপি হাতে পেলেই আমরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবো”। উল্লেখ্য, ১৩ তম নিবন্ধিত শিক্ষকেরা তাদের একক নিয়োগ পাওয়ার জন্য ২০১৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। যার রায় হলে (NTRCA) আবার অ্যাপীল করে এবং তার রায়ও হয়ে যায় কিন্তু হাইকোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও করোনা পরিস্থিতির কারণে রায়ের পর্যবেক্ষন কপি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি বলে ১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রতিনিধি ও ঘঞজঈঅ সূত্রে জানা যায়। ফলোশ্রুতিতে প্রায় ৬০ হাজার শূণ্যপদের বিপরীতে নিয়োগ প্রত্যাশী লক্ষাধিক নিবন্ধিত শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
বর্তমানে করোনা ও বেকারত্বের ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য এসব নিবন্ধনধারী শিক্ষকরা অসহায়ত্ব সঙ্গী করে জীবন অতিবাহিত করছে । এদের মধ্যে যাদের বয়স ৩৫ অতিক্রম করেছে নীতিমালা অনুযায়ী তারা আবার শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের সুযোগ হারিয়েছেন। অনেকের বয়স পয়ত্রিশর্দ্ধো হওয়ার দ্বারপ্রান্তে তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে আলো ছড়ানোর প্রদীপ নিভু নিভু করছে। মোটকথা, এসব বেকার আজ সর্বসাকূল্যে বেকার, পরিবার ও সমাজ থেকে অবহেলিত। বেকারত্বের নিষ্ঠুর যন্ত্রনা এবং পরিবার ও বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী খুব ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। যার কারণে অনেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পৃথিবীকে পর্যন্ত বিদায় জানাচ্ছে।
অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা ও বেকারত্বের করুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে নিবন্ধিতরা বিভিন্ন ভাবে ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জোর দাবী জানাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে (NTRCA) পর্যন্ত কেউ জোরালো এই দাবীর বিষয়ে আন্তরিক হচ্ছে না। হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষন কপি বা আইনী জটিলতার অজুহাত দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষকদের স্বপ্ন ধুলিসাৎ করা কখনই সমীচিন হবে না। এই বিশাল দক্ষ নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও করোনা পরবর্তী শিক্ষার যে বিশাল ক্ষতি তা কাটিয়ে উঠতে হলে এসব শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ দেয়ার বিকল্প কোন কিছুই কাম্য নয়। যুগোপযোগী ও প্রশিক্ষিত এই শিক্ষকেরাই করোনা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তাছাড়া করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাভাবিক মান বজায় ও সরকার কর্তৃক ঘোষিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতিকে ত্বরানিত করতে সহায়ক হবে। জাতির এই দুঃসময়ে শিক্ষাক্ষেত্রের স্বীয় ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবং আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে সু-শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনে নিরলসভাবে কাজ করতে এসব নিবন্ধিত শিক্ষকেরা সবসময় বদ্ধ পরিকর।
তাছাড়া ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্বিক বেকারত্বের ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির দেখা মিলবে। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে বেকারত্বের পরিস্থিতি যেহেতু সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে সেহেতু দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার কমানোর ক্ষেত্রে এই নিয়োগ কার্যক্রম একটি কোশলও হতে পারে। যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরানিত করবে।
পরিশেষে, প্রায় ৬০ হাজার নিবন্ধিত এসব শিক্ষকদের প্রাণের দাবী পূরণে, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক ক্ষতি হ্রাস করতে ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রেখে সমৃদ্ধি ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব ৩য় গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিয়োগ প্রদানের যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, দপ্তর ও বিশেষ করে (NTRCA) প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল। সু-শিক্ষা ও আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সু-শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ গ্রহন করা এখন সময়ের দাবী।
লেখক-
নিবন্ধিত শিক্ষক, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন ও
নিয়োগ প্রত্যাশী ১-১৫ তম সকল নিবন্ধনধারীদের পক্ষে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
