এইমাত্র পাওয়া

সেকেলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়

আনিস মালিক।।

ষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মোহনা একটি সরকারি গার্লস স্কুলের ছাত্রী। প্রতিদিন খুব ভোরে উঠে হাত মুখ ধুয়ে আধ আধ ঘুমে বিদ্যালয়ের সকাল ৭.১০ টায় শুরু হওয়া অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহন করে। ৭ টা ৩০ মিনিট থেকে ১২.০০ টা পর্যন্ত চলে সেকেলে নিয়মতান্ত্রিক ক্লাস। এর মধ্যে ৯.৪০ থেকে ১০.১০ মিনিট বিরতি বা টিফিন টাইম। আদিকালের বেঞ্চ সমেত ক্লাস রুমে প্রথম পিরিয়ড ৫০মি. বাকি ৫ টি ক্লাস ৪০মি. করে মোট ৬টি ক্লাস।

মোহনা বিরতির ৩০ মিনিটের মধ্যে কখনো বাড়ি থেকে নেয়া পর্যাপ্ত টিফিন অথবা স্কুলের সরবরাহ করা একটি ছোট্ট কেক কিংবা ছোট দুটি সিঙ্গারা বা ভেজিটেবল রোল খেয়ে শ্রেণি কক্ষেই বসে থাকে পরবর্তী ক্লাসের জন্য। অর্ধপেটে ক্লান্তিকর ক্লাস শেষে পিঠের ব্যাগে এক গাদা বই খাতা ও ডায়েরি নিয়ে অপেক্ষারত অভিভাবকের সাথে বাড়ি ফেরে। ঘরে আসতে আসতে পিঠ বাকা হয়ে স্কুল ড্রেস সমেত ঘামে গন্ধে জুতু থুবু অবস্থা যা ওর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

তিয়ানা অন্য একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে যেখানে সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে অ্যাসেম্বলি শুরু করে শ্রেণি কক্ষের বাইরের লবিতে এবং শ্রেণি শিক্ষক নিজে তা পরিচালনা করেন। সেখানে ছোট ছোট বিভিন্ন খেলাধুলা ও ব্যয়ামের মাধ্যমে সকালের ঘুমন্ত শরীরকে চাঙ্গা করা হয় এবং ৭ টা ৫৫ মিনিটে ক্লাস শুরু করে ১২ টা ৩০মিনিট পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।

মধ্যে ৫৫ মিনিটের বিরতিতে সে স্কুল থেকে পরিবেশিত স্বাস্থ্যকর খাবার খায় এবং স্কুলের বন্ধুদের সাথে মাঠে ও স্পোর্টস রুমে খেলাধুলা করে। বিরতির আগে ও পরে ৫৫ মিনিট করে মোট ৪টি ক্লাস করে; ক্লাস রুম গুলো ছোট ছোট চেয়ার টেবিল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। শ্রেণি শিক্ষকরা পাশে বসে বন্ধু সুলভ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিকল্পিত পড়াশনো ও শিক্ষনীয় গল্পের মাধ্যমে উৎসাহিত করে থাকেন। যখন ক্লাস শেষে স্কুলের ভ্যানে বাড়ি ফেরে তখন সে স্কুল ব্যাগে খুব কম সংখ্যক বই-খাতা বহন করে । যা তার জন্য ভারসাম্য পূর্ন ও তৃপ্তিদায়ক।

নাহার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানিবক বিভাগের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন আইন বিষয়ে পড়ে । উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সে বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির ছাত্রী ছিল এবং তার ফলাফলও ঈর্ষণীয়। মানবিক বিভাগে পছন্দের বিষয়ে পড়তে গিয়ে এখন নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন। আইন বা এর সিস্টেম তার মাথায় ঢুকছে না; অবস্থা এমন আগে অনুভব করলেও বিজ্ঞানের সব থেকে কম চাহিদা সম্পন্ন বিষয়ে পড়তো পারত কিন্তু এখন তার বইয়ের প্রতিটি পাতা ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলে রাখতে ইচ্ছে করে। ভাবছে আগামী বছর আবার পরীক্ষা দিয়ে বিজ্ঞানের কোন ভালো বিষয়ে পড়তে হবে। তো তার জীবনের মুল্যবান একটি বছর হারিয়ে গেল এমনকি তার ভবিষৎ জীবন থেকেও।

উপরে উল্লেখিত তিনটি সাধারণ গল্পের প্রথমটি ও তৃতীয়টি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান। আর দ্বিতীয়টি এদেশে কাল্পনিক কিন্তু উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে প্রচলিত।

দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এতটাই নিয়ম রক্ষার যা কোন শিক্ষার্থী সম্পুর্ন শেষ করে উন্নত দেশে গবেষনা করতে গিয়েও দেশীয় সনদ পত্র দিয়ে সেখানে হোটেলের বয় কিংবা পানশালার চাকরের কাজ ছাড়া ভালো মানের কাজ পায় না যতক্ষন পর্যন্ত সেখানের কোন ডিগ্রি অর্জন করা না হয়ে থাকে। অথচ আমরা উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের যে কোন অর্ধশিক্ষিত লোককেও ধরে এনে এখানে অধিকারিদের চেয়ারে বসিয়ে দেই। কিন্তু উপলব্ধি করি না।

গাদা গাদা বই পড়ে সত্যিকারের মানুষের বদলে দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অধিকাংশ গাধার সৃষ্টি করি যার ভার আমাদের প্রিয় দেশটি বহন করছে। নামে মাত্র শিক্ষিত লোকের দোহাই দিয়ে বেকারত্বের অভিশাপ হয়ে লাখ লাখ এরকম শিক্ষার্থী অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাবন করছে। আমাদের অভিভাবকরা স্কুল কলেজের গেটে রাস্তার উপরে ফুটন্ত রোদ্দুরে বা কনকনে শীতের বাতাসে ঘুপটি মেরে আবার কখনো প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে, বসে সহ কর্ম ঘন্টা ও অর্থ নষ্ট করছি।

দিনে দিনে শুধু অগনিত পাঠ্য বই পড়েই শিক্ষিত হবার যে প্রবণতা আমাদের মধ্যে তৈরী হয়েছে তা থেকে বের হতে জাতি হিসেবে আর কত সময় লাগবে ? ২০১৭ সালে আমি তৎকালিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা এক পরিচালকের সাথে এই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে মুখোমুখি আলোচনা করেছিলাম যার প্রেক্ষাপটে তিনি সেদিন জানিয়েছিলেন, আমাদের একটা উচ্চ শিক্ষা প্যানেলের সদস্যরা এসব নিয়ে কাজ করছে; ফলে শীঘ্রই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে।

কিন্তু দুঃখের কথা হলো ২০২০ সালের মধ্য পর্যায়ে এসেও তার কোন সংবাদ আমাদের আর জানা নেই। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার যখন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তখন তার কাছে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বলেছিলেন, আধুনিক সভ্যতায়ও আমরা উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ও গবেষনা ব্যবস্থা থেকে দুই শত বছর পিছিয়ে আছি। ভাবা যায়?

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে প্রথমেই স্কুল কলেজের কাঠামোগত অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথম শ্রেনীর আগে যেসব প্রাক স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে এক গাদা বই পড়ানো হতো তা বাতিল করতে হবে। সেখানে খেলাধুলা আর নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে শিশুদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

প্রথম শ্রেনী থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজী ও সাধারন গণিত ব্যতীত অন্য কোন বিষয় থাকতে দেয়া যাবে না, মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে বছরে একটি। তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা (ব্যকরন ও সাহিত্য), ইংরেজী (গ্রামার ও সাহিত্য), গনিত (পাটি গণিত ও বীজ গণিত), সমাজ ও সাধারন বিজ্ঞান (ইতহাস, ভুগোল ও বিজ্ঞানের সমন্বয়), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষাসহ মোট ছয়টি বিষয়ে পড়াশোনা করবে এখানে বছরের শেষে সমাপনী পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে তবে বছরের মধ্যে সুবিধা মত প্রাক পরীক্ষা বা ক্লাস টেষ্ট নেয়া যেতে পারে।

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থী বাংলা (ব্যকরন ও সাহিত্য), ইংরেজি (গ্রামার ও সাহিত্য), সামাজিক বিজ্ঞান (সাধারন বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং ভুগোল ও পরিবেশ এর সমন্বয়), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পদাথর্, রসায়ন ও ব্যবসায়ে উদ্যোগসহ মোট ৭ টি বিষয় এর সাথে ঐচ্ছিক দুটি বিষয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক বিষয় গুলো নির্ভর করে পরিবর্তী ধাপের পড়াশোনার জন্য বিবেচিত হবে। মানবিক বিভাগের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় হবে ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, অর্থনীতি, পৌরনীতি, চারু ও কারু কলা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, ভাষা ও সংস্কৃতি, আরবি, সংস্কৃতি, পালি, সংগীত, বেসিক ট্রেড, শারিরীক শিক্ষা।

বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় হবে জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গনিত, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ঐচ্ছিক বিষয় থাকবে হিসাব বিজ্ঞান, ফিনান্স ও ব্যাংকিং, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, চারু ও কারু কলা, ভাষা ও সংস্কৃতি, সংগীত/ বেসিক ট্রেড। এসকল যাবতীয় বিষয়গুলো ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে থাকবে, যা থেকে আবশ্যক দুটি বিষয়সহ মোট ৯টি বিষয়ে ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখানেও প্রতি বছরে একটি সমাপনী পরীক্ষা নিতে হবে। সকল শ্রেনীতে সিজিপিএ হতে হবে আউট অব ৪; সাথে নম্বর পত্রে সকল বিষয়ের নম্বর উলেলখ থাকবে। নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। শ্রেণি কক্ষগুলো থাকবে ভার্চুয়াল বা প্রযক্তি সমন্বিত। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। স্নাতক/ সমমান এবং স্নাতোকোত্তর/ সমমানসহ মোট ৪টি স্তর থাকবে।

যে কোন শিক্ষার্থী তৃতীয় স্তর শেষে প্রথম শ্রেনী ও সমমান চাকুরির জন্য আবেদন যোগ্য হবে। তিন বছরের ডিগ্রী কোর্স বাতিল করে রাত্রি কালীন সম শিক্ষাব্যবস্থায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স চালু রাখতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার সেশন পরিবর্তন করে জুলাই থেকে জুলাই শিক্ষাবর্ষ হিসেবে ঘোষনা দিতে হবে।

অষ্টম শ্রেণির পর আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কারিগারি শিক্ষা কাঠামোর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। সেখানেও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রন থাকবে। দ্বাদশ শ্রেণির যে সকল শিক্ষার্থী মুল ৭টি বিষয়ের সাথে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়সমুহ নিয়ে যারা পড়বে তারা মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও মানবিক এবং ব্যবসায়ে উদ্যোগ বিভাগে এখনকার মতোই আবেদন যোগ্য হবে। যে সকল শিক্ষার্থী মুল ৭টি বিষয়ের সাথে ঐচ্ছিক মানবিক বিভাগের বিষয় সমুহ পড়বে তারা মানবিক বিভাগের সকল বিষয়ে পড়তে পারবে।

যারা ঐচ্ছিক ব্যবসায়ে উদ্যোগ বিষয় সমুহ নিয়ে পড়বে তারা ব্যবসায় উদ্যোগ ও মানবিক বিভাগে আবেদন যোগ্য হবে। এখানে অতিরক্তি সকল বিষয়গুলি নির্দিষ্ট বিভাগ অনুযায়ী বিভাজনর উপর শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা নির্ধারিত হতে পারে। এমনকি শিক্ষার্থীরা অবশ্যক পঠিত বিষয়ে সে সকল বিভাগেও ভর্তি হয়ে পড়াশোন করতে পারবে। পাঠ্য বইয়ের মান হতে হবে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরো বিশ্বায়নের সাথে পরিচালিত করতে কুটনৈতিকভাবে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এই ব্যবস্থা হলে যেমন শিশু শিক্ষার্থীদের উপর চাপ কমবে তেমন আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থারও ভিত্তি দাড়িয়ে যাবে এবং তখন একজন বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মানবিক বিভাগের যে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে সমস্যা বা অসুবিধার সৃষ্টি করবে না।

দেশের ও অন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিতি সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে এই আদলে জাতীয় উচ্চ পর্যায়ের একটি শিক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি করে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পাঠ্য বই ও সুচি তৈরী করে সে অনুযায়ী প্রয়োগ করলে আশাকরি আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিশার খোজ পাবো। একটি সংগঠিত ও মান সম্পন্ন শিক্ষিত জাতিই একটি উন্নত রাষ্ট্রের সমর নায়ক।

আমাদের ভাবতে অবাক লাগে গত শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ২৮ মে ১৯০৩ সালে যেখানে ইংলান্ডে যাত্রী পরিবহনে নিজেদের উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক ট্রামের যাত্রা শুরু কওে; সেখানে আমরা আজও এই যন্ত্রটি চোখেও দেখিনি, সে সম্পর্কে জ্ঞাতও নই। দেশীয় অর্থনৈতিক অবস্থার কারনে উন্নত বিশ্বের জনবল এনেও তা করা সম্ভবপর নয়। মেধাবীদের ধরে রাখতে উচ্চতর বৃত্তির পরিধি বাড়াতে হবে। দেশে উন্নত মানের হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে।

এতে সকল খাতে উৎপাদন ব্যবস্থায় আমরা নিজেরাই অংশগ্রন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। আজ আমদের দুঃখ হয় স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে এসে দেশের একটা বৃহৎ সেতু তৈরী করতেও প্রকৌশলী খুঁজতে বিদেশে যেতে হয়। বড় কোন চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের হাসপাতালগুলোতে লাইন দিতে হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এদেশে কোন ভবিষৎ খুঁজে না পেয়ে ইউরোপ আমেরিকা কিংবা মধ্য এশিয়ায় স্কলারশিপ নিয়ে কখনো নিজ খরচে পড়তে গিয়ে সেখানেই থেকে যায়। আমাদের জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়ানোর আর সময় হবে কখন?

এখনই সময় দার্শনিক চিন্তা ধারার বই পাঠ্য তালিকা তেকে বাদ দিয়ে ভাষা, সাহিত্য ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সাথে গুরুত্ব দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তাহলে হয়তো আমরা নব যুগে প্রবেশ করতে পারবো।

লেখক-কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.