পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উৎফুল্ল এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

‘প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে। সব প্রশ্নের উত্তর লিখে এসেছি। এত ভালো লিখেছি যে, নম্বর কাটার সুযোগও নেই। তারপরও বাংলা পরীক্ষা হওয়ায় হয়তো নম্বর কাটতে পারে। গণিত বা ইংরেজি হলে নম্বর কাটারও সুযোগ থাকতো না।’

পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে কথাগুলো বলছিল তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহনাজ রহমান। সে সরকারি বিজ্ঞান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে এসএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানায় শাহনাজ।

শাহনাজের ভাষ্য, ‘ভয়ে ছিলাম। আব্বু-আম্মুও ভয়ে ছিলেন। এবার পরীক্ষা কঠিন হবে। কী হয় না হয়! কিন্তু প্রশ্ন খুবই সহজ হয়েছে। সবার কমন পড়েছে। কমন প্রশ্ন আসায় কেউ দেখাদেখিও করেনি।’

একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে হলি ক্রস গার্লস হাই স্কুলের পরীক্ষার্থীরাও। হলি ক্রসের দুই ছাত্রী জানান, তারা যা পড়েছে, সবই প্রশ্নে এসেছে। লিখতে সমস্যা হয়নি। আর পরিদর্শকরাও তাদের সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করেছে।

হলি ক্রসের ওই দুই ছাত্রীর একজন নাজিফা আনজুম। তার ভাষ্য, ‘বাংলা পরীক্ষা সহজ হবে জানতাম। কিন্তু এতটাও সহজ হবে, তা ভাবিনি। গুড স্টার্টিং হয়েছে, এ ধারা বজায় রাখতে পারলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার আশা পূরণ হবে।’

তার সঙ্গে থাকা আরেক ছাত্রী বলছে, ‘এখন ম্যাথ ও হাইয়ার মাথ্যটা সহজ হলেই হলো। আর কিছু চাই না। ইংরেজি যত কঠিনই হোক এ প্লাস তুলবোই।’

শিক্ষার্থীরা বলছে প্রশ্ন সহজ। তারা ভালো লিখেছে। শিক্ষকরা বলছেন, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডে বাংলা প্রশ্ন সহজ হয়েছে। তবে কুমিল্লাসহ দুই-তিনটি বোর্ডের এমসিকিউ অংশ বেশ কঠিন ছিল। পাশাপাশি গাইড বই থেকে প্রশ্ন হুবহু তুলে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

রাজধানীর একটি স্কুলে বাংলা বিষয় পড়ান ইসমত আরা। তিনি  বলেন, ‘প্রশ্নগুলো গাইড থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেকটা মুখস্ত জিনিস খাতায় লিখে আসছে। শিক্ষার্থীরা উৎফুল্ল ঠিকই, কিন্তু প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সৃজনশীল প্রশ্ন কেন গাইড বই থেকে হুবহু একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে তুলে দেওয়া হবে?’

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘প্রশ্ন কয়েক স্তরে মডারেট করা হয়। এক্ষেত্রে বোর্ডের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট থাকেন না। বিশেষজ্ঞরা এ প্রশ্ন তৈরি ও মডারেট করেন। তারা মানসম্মত প্রশ্ন করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

এদিকে, প্রথমদিনে কত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, তা এখনো জানায়নি বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পাশাপাশি নকল ও অনিয়মের দায়ে কতজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে তথ্যও এখনো জানা যায়নি।

পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘আজকের এসএসসি পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে। আমি নিজে কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়েছি, সিসি ক্যামেরায় দেখেছি। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও কোনো ঘটনা নেই। আগামীতেও এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

শিক্ষাবার্তা /এ/ ২১/০৪/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.