মাদারীপুরঃ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূমিকম্পে আতঙ্ক বেড়েছে মাদারীপুরে। জেলার ৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। এসব ভবনের কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও ফাটল ধরেছে; আবার মাথার ওপর পড়ছে ইট-সুরকি। এতে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে এলজিইডি বলছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হওয়ার পর প্রকল্প হাতে এলেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ৭৫নং গোসাইদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন থেকে কখনও খসে পড়ছে পলেস্তারা, কখনও আবার ইট বা সুরকি। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ভূমিকম্পের পর নতুন করে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদানে অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অথচ, ২০১০ সালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি ৫ বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে ৪৪নং বলাইরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। পুরfনো ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একটি কক্ষেই দুটি শ্রেণির পাঠদান হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে ভিজে যায় বই-খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসাও বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, বার বার বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। অবশ্য, শিক্ষা অধিদফতর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা পেলেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে ভবন নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ এলজিইডি।
জানা যায়, মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় ৭১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষকের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮ জন। এরমধ্যে ৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
৭৫নং গোসাইদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই বিদ্যালয়ে দুটি ভবন। একটি ভবন ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়েছে। আর পুরাতন ভবনটি ১৯৯০ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরাতন ভবন ব্যবহার করা গেলেও নতুন ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতো তাড়াতাড়ি নতুন ভবন নষ্ট হয়ে যাবে এটা বোধগম্য নয়। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে বসার উপায় থাকে না, এছাড়া বার বার নতুন ভবন থেকে পলেস্তারা খসে পড়ায় বাড়ছে আতঙ্ক। আমরা এর থেকে স্থায়ী প্রতিকার চাই।’
৪৪নং বলাইরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকবার ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বেড়েছে আতঙ্ক, অন্যদিকে ভয়ে থাকছেন কর্মরত শিক্ষকরাও। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় আগে। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এই তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হওয়ার পর প্রকল্প হাতে এলেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৯/১২/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
