জবিতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকায় বাধা, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকের ওপর হামলা

ঢাকাঃ বিজয় দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকে একদল শিক্ষার্থী পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বাঁধার মুখে পড়েছে। সেই মুহূর্তে সংবাদ সংগ্রহের সময় ক্যাম্পাসের দুই সাংবাদিককের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহাদ ইবনে বাছিত বলেন, আমরা বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে পাকিস্তানের পতাকা আঁকছিলাম, তখন হঠাৎ সহকারী প্রক্টর এসে আমাদের বাধা দেয় প্রথমে। তারপর তারা জানতে চায়, আমরা পতাকা আঁকার জন্য কেন অনুমতি নিইনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্কে একপর্যায়ে তারা চলে যান।

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরে আমরা পুনরায় পতাকা আঁকা শুরু করলে ক্যাম্পাসে থাকা বেসরকারিভাবে পরিচালিত (ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে) একটি হলের শিক্ষার্থীরা অতর্কিতভাবে আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং প্রক্টরের সামনে হামলা চালায়। তারা আমাদের হামলার সময় বলতে থাকে, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গেছে, এখানে কোনো পতাকা আঁকা যাবে না।’

এই সংবাদ সংগ্রহের হামলার শিকার হন ক্যাম্পাসের কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মিনহাজুল ইসলাম ও জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ওমর ফারুক জিলনসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দৈনিক জনকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ওমর ফারুক জিলন বলেন, পাকিস্তানের নৃশংসতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পাকিস্তানের পতাকা আঁকে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আলী স্যার বাধা দেন এবং পতাকা আঁকা শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের হুমকি দেন। এরপর পুনরায় আঁকতে গেলে প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক স্যার বাধা দেন। এসময় কিছু শিক্ষার্থী বাস নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে চাইলে আমরা পতাকা আঁকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু তারা সেটা না মেনে হৈ-হুল্লোড় শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ভাস্কর্য চত্বর থেকে দৌড়ে গিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে।

কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, আমি লাইভ সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলাকারীরা আমাকে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় প্রক্টরের সামনেই তারা আমাকে আঘাত করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজমুল হক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। উভয়পক্ষকে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৬/১২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.