মো. ওমর ফারুক: মানসম্মত ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবার আগে শিক্ষকদের জন্য একটি মানসম্মত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরকে জাতীয়করণ করা এখন সময়ের দাবি। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র যেমন বিবেচ্য তেমনি শিক্ষকদের মান এবং জাতীয়করণ হলে আউটপুট কি হবে রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকগণ অবশ্যই এ বিষয়গুলি বিবেচনায় রাখবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সক্ষমতাকেও আমলে নিতে হবে । সরকারের সদিচ্ছা থাকায় এরই মধ্যে সরকারি কলেজ ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিহীন প্রতিটি উপজেলাতে একটি করে কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুলকে জাতীয়করণ করা হয়েছে।
সরকার চাইলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে কিছু শর্ত বা ইন্ডিকেটর পূরণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে পুরো মাধ্যমিক সেক্টরকে জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। যেহেতু বেসরকারি এমপিও ভুক্ত বিদ্যালয় গুলোতে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের শতভাগ অর্থই সরকার রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে প্রদান করে থাকে। যদিও সরকারি কোষাগারে ওই বিদ্যালয় সমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতনাদি সহ বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পদ থেকে অন্যান্য আয় অথবা অনুদানের অর্থ জমা নেওয়া হয় না! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে উল্লিখিত আয়সমূহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারও সমৃদ্ধ হবে বৈকি! বর্তমানে এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বেতনাদি বাবদ প্রদয় অর্থের পাশাপাশি বাড়তি কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখলে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ অসম্ভব হবে না। তবে এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের সক্ষমতার ব্যাপারটিও। কেননা করোণা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের আর্থিক সক্ষমতার মেরুদন্ড অনেকখানি দুর্বল হয়ে গিয়েছে! তাছাড়া রাষ্ট্রের সক্ষমতাও কিন্তু হঠাৎ করেই বাড়ে না, ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে একটি দেশ উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। বর্তমান সরকারও দেশকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া সংবাদ। সরকারের লক্ষ্য পূরণে উন্নত রাষ্ট্রের ন্যায় এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে উন্নত রাষ্ট্রের সাথে সঙ্গতি রেখে এবং দেশের আর্থ ও সামাজিক বাস্তবতা মাথায় রেখে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে কারিকুলাম উন্নত করতে কাজ শুরু করেছে। আশা করা যায় একটি মানসম্মত কারিকুলাম অচিরেই প্রণীত হবে এবং তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান স্থবিরতা কাটিয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
নতুন কারিকুলাম এর সফল বাস্তবায়নে শিক্ষকগণের ভূমিকা মুখ্য। আমাদের শিক্ষকগণ ভালো থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন ও মান উন্নয়ন সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হবে। এদিকে নন এমপিও শিক্ষকগণ সরকারের কাছ থেকে কোন আর্থিক অনুদান পান না অর্থাৎ তাদেরকে বেতন ভাতার সরকারি অংশ দেওয়া হয় না! যদিও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন দেওয়া হয়; তবে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা অত্যন্ত নগণ্য! তাছাড়া ভবিষ্যৎ চিন্তায় কল্যাণ তহবিলে ১০ ভাগ অর্থ কেটে রাখা হয় এই সামান্য অর্থে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে একজন শিক্ষক আত্মসম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় টিকে থাকা এবং ছাত্র-ছাত্রীর কাছে অনুকরণীয় আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রেজেন্ট করা খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে!
এমনিতেই বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে সরকারি, বেসরকারি, এমপিওভুক্ত, নন এমপিও ভুক্ত অর্থাৎ সকল পর্যায়ের শিক্ষকগণ তাদের নির্দিষ্ট আয়ের উপর চলতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমপি ভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকগণ গত ১২ অক্টোবর থেকে এক জোট হয়ে আন্দোলন করে আসছেন। প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণ দাবির পাশাপাশি মূলত এই মুহূর্তে তারা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে কর্তৃক শতাংশ হারে (২০%) বাড়ি ভাড়া এবং ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদানের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই যৌক্তিক এবং নৈতিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ যেভাবে শিক্ষকদের উপর চরম হয়েছে তা একটি সভ্য দেশের জন্য লজ্জার বলে মনে করি! শিক্ষককে লাঠিপেটার মাধ্যমে শুধু রক্তাক্ত করেই তারা ক্ষান্ত হননি , তারা শিক্ষকের হাতে হাত কড়া পড়িয়ে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন বলে শিক্ষক সমাজ মনে করেন! এমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠান (মাধ্যমিক স্তর ) জাতীয়করণের দাবিতে এই শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছেন। প্রথমে এ আন্দোলন ছোট্ট পরিসরে শুরু হলেও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শেষ দিকে এসে তা গণদাবিতে পরিণত হয়েছিল। ইতোমধ্যে তারা অনশনসহ শিক্ষক মহাসমাবেশের ডাক দিয়ে তা সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেও তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। যদিও এই মুহূর্তে বছরের শেষ দিকে এসে কর্ম বিরতির মতো কর্মসূচি পালন করার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্বাভাবিক অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। যা শিক্ষার মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না! কিন্তু কর্ম বিরতির মতো কর্মসূচির দিকে যেতে সরকার শিক্ষকদের বাধ্য করছেন না তো?! সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করার পরেও কেন এই বাড়াবাড়ি করা হলো?!
এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের দাবি তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে! কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে স্বল্প আয়ে তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম অবস্থা হয়েছে, আশঙ্কায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন; এর কারণ এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বেতন ভাতা অত্যন্ত নগণ্য!
উল্লেখ্য, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন মাত্র ১২,৫০০টাকা। এছাড়া তাঁরা মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। যে টাকা থেকে ১০ ভাগ কর্তন করা হয়ে থাকে! বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য অর্থ দিয়ে সাধারণভাবে বেঁচে থাকাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি শিক্ষকগণ যদি আর্থিক সংকট নিয়ে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করে অর্থাৎ শিক্ষককে বঞ্চিত রেখে দেশে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভবপর নয় বলে বিদগ্ধজনেরা মনে করেন। যেখানে একটি উন্নত রাষ্ট্রের একজন শিক্ষকের বার্ষিক গড় আয় ৫৩ লক্ষ টাকার উপরে সেখানে আমাদের দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত একজন শিক্ষকের বেতন ভাতা মিলিয়ে বছরে গড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি নয়! অর্থাৎ উন্নত রাষ্ট্রের একজন শিক্ষকের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ বেতন ভাতা এদেশের একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক সারা বছর ধরে আয় করে থাকেন! যা আমাদের অর্থনীতির ভিত কতটা দুর্বল এবং এদেশে একজন শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা মর্যাদা কোন পর্যায়ে রয়েছে তা’ সহজে অনুমেয়। তাহলে একজন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কতটা মানবতার জীবন যাপন করেন তা সহজেই বোঝার কথা!
হ্যাঁ একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দুর্বল ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ থেকে আমরা পর্যায়ক্রমে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। তবে রাষ্ট্রীয় ভাবে আমাদের বর্তমান যে সক্ষমতা হয়তো সেই সক্ষমতায় এই মুহূর্তে একযোগে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সম্ভব নাও হতে পারে, যদিও শিক্ষকদের দাবি অযৌক্তিক নয়। আমাদেরকে রাষ্ট্রের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। এমতাবস্থায় সরকারকে সবার আগে শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। আবার শিক্ষকদেরও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা এবং বাস্তবতা মাথায় রেখে দাবি জানাতে হবে। আমার দৃষ্টিতে শিক্ষকদের মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকা। এই বিষয়টি যদি সরকার আন্তরিকভাবে দেখেন এবং নিশ্চয়তা দিতে পারেন তবে শিক্ষকগণ নিশ্চয়ই নমনীয় হয়ে রাজপথ ছেড়ে তাদের সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ক্লাসে ফিরে পাঠদানে নিমগ্ন হবেন।
সম্মানিত শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদলে সকল পর্যায়ের শিক্ষকগণের জন্য একটি মানসম্মত স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই। আর এটি করতে পারলে শিক্ষকরা যেমন এই মুহূর্তে একযোগে জাতীয়করণের দাবি থেকে সরে আসতে পারেন তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জন্য একটি বিরাট ইতিবাচক কাজ হতে পারে! হ্যাঁ, একটি মানসম্মত স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন ই হতে পারে বর্তমান সময়ে উদ্ভূত সমস্যার চমৎকার সমাধান। এতে করে শিক্ষকগণ তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিশ্চয়তা পেয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসবে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কিছু ইন্ডিকেটর নির্ধারণ করে দিয়ে হলেও প্রতি বছর ধাপে ধাপে এবং সরকারের তথা রাষ্ট্রের সক্ষমতার সাথে সাথে পুরো মাধ্যমিক স্তরটি জাতীয়করণের বিষয়টি ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করা যেতে পারে। যে কমিশন জাতীয়করণের ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ একটি প্রস্তাবনা ও তৈরি করবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে তাঁদের সুপারিশমালা সরকারকে জমা দিবে। এতে করে শিক্ষকতায় মেধাবীদের আগমন ঘটবে এবং তাদেরকে এ পেশায় ধরে রাখা সম্ভব হবে। আর মেধাবীরা শিক্ষকতায় যুক্ত হলে এবং তাদেরকে ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের হাত ধরেই দেশপ্রেমিক, স্মার্ট, মানবিক ও বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি হবে। এভাবেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ একদিন উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হবে-ইনশাআল্লাহ। একইসাথে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ ও উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণে সক্ষমতা অর্জন করবে।
পরিশেষে, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সম্ভব হলে আজকের মধ্যেই শিক্ষকদের সঙ্গে ওয়াদা কৃত এবং তাদের দাবি কৃত যে সামান্য চাওয়া ২০% হারে বাড়িভাড়া এবং এক হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদানের গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের জন্য অচিরেই একটি মানসম্মত স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিবেন-এই প্রত্যাশা করছি।
লেখক: সহকারী শিক্ষক (বাংলা), সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা ও সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস), কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
