বিবেকের তাড়না না ক্ষমতার দাবি: শনিবার ক্লাসের সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।। 

শিক্ষক সমাজের আন্দোলন, দাবি ও দায়িত্ব-এই তিনটি শব্দ এখন বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ১২ অক্টোবর থেকে  টানা আট দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা । তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা বাস্তবায়ন। সরকার আংশিক সাড়া দিয়েছে, ঘোষণা দিয়েছে ধাপে ধাপে ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ ১ নভেম্বর-২০২৫ থেকে ৭.৫০% এবং জুলাই/২০২৬ থেকে ৭.৫০% বৃদ্ধি করা হবে।  

তবু এই আন্দোলনের অবসানের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী নতুন এক ঘোষণা দিয়েছেন—“শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী চার শনিবার ক্লাস নেওয়া হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি বলেন, “এটা সরকারের নির্দেশ নয়, বরং আমাদের বিবেকের তাড়না থেকে নেওয়া পদক্ষেপ।”

এই ঘোষণা শিক্ষক সমাজে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে বিতর্ক। অনেকে বলছেন, এই সিদ্ধান্ত এক ধরনের “ক্ষমতার প্রদর্শন” যেখানে সরকারকেও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবার অনেকের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।

শিক্ষকদের আন্দোলন শুধু বেতনভাতা বা সুবিধার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্মান ও অস্তিত্বেরও প্রশ্ন। বহু বছর ধরে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে যায়। তাদের দাবির প্রতি সরকার অনেক সময় ‘অসহযোগিতা’ করে বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিলম্ব করে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছিল প্রায় অনিবার্য।

কিন্তু আন্দোলনের পর যখন শিক্ষক নেতারা বলেন—“শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণের জন্য শনিবার ক্লাস নেওয়া হবে”—তখন এটি এক মানবিক সুর তৈরি করে। আজিজীর ভাষায়, “আমাদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ পাশে ছিল, এখন তাদের সন্তানদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।”

এ বক্তব্য নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীলতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই—দায়িত্ববোধের নামে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেটি কি আইনসিদ্ধ ও প্রশাসনিকভাবে যৌক্তিক?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যদিবস, বন্ধ, পরীক্ষা সূচি— এসব নির্ধারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহ।

অতএব, কোনো সংগঠনের তাদের এককভাবে শনিবার ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা প্রশাসনিকভাবে বৈধ নয়।

আজিজী বলেছেন, “কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আমাদের সংগঠনের নেতারা তাদের খোঁজ খবর রাখবে। অনেকে বলছেন এটা এক ধরনের হুমকি। 

কিন্তু এই খোঁজ খবর নেওয়ার ক্ষমতা তার সংগঠনের নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত; তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, না যে কোনো সংগঠন ?

এখানেই প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই “বিবেকের তাড়না”, নাকি “ক্ষমতার তাড়না”?

একদিকে শিক্ষক সমাজ দাবি করছে, তারা দেশের সন্তানদের শিক্ষার ক্ষতি পূরণ করতে চায়। অন্যদিকে আজিজির এই ঘোষণার ভাষা ও ভঙ্গি অনেক শিক্ষক নেতিবাচক ভাবে দেখছেন।

যেমন আজিজীর বক্তব্য—“আন্দোলনের পর আরেকটি “শক্তি প্রদর্শনের” ইঙ্গিত দেয়।

এই শক্তি প্রদর্শন শিক্ষকের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। কারণ শিক্ষক সমাজ নীতির জায়গায় দাঁড়াতে পারলে তার প্রভাব সবচেয়ে গভীর হয়; কিন্তু যখন তারা প্রশাসনিক হুমকির ভাষা ব্যবহার করে, তখন তা সমাজে নতুন বিভাজন তৈরি করে।

আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা অস্বীকার করা যায় না। আট দিন ক্লাস বন্ধ থাকা মানে শত শত স্কুল-মাদ্রাসায় পাঠক্রম থমকে যাওয়া।

বিশেষত নভেম্বর মাসে যখন বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে, তখন প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে “শনিবার ক্লাস” প্রস্তাবটি মূলত নৈতিক দায় পূরণের একটি চেষ্টা।

তবে বাস্তবতা হলো—অনেক স্কুলে শনিবারে ক্লাস নিলে পরিবহন, নিরাপত্তা, সময়সূচি জটিলতা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, নৈতিক ইচ্ছা থাকলেও প্রশাসনিক সমন্বয় ছাড়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন।

শিক্ষক সমাজের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা উপকারী হবে—সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। শিক্ষার্থীরা একদিকে তাদের শিক্ষকদের পাশে থাকতে চায়, অন্যদিকে সপ্তাহে ৫ দিন ক্লাসের পর ৬ দিনেও ক্লাসে আসা মানসিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য তো এটি আরও কঠিন।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও দ্বিধায় পড়েছেন। তারা একদিকে শিক্ষকদের দায়িত্ববোধকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।  অন্যদিকে তারা বলছেন তাদের সন্তানের ধারাবাহিক রুটিনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শনিবারের ক্লাস তেমন উপকারে আসবেনা। 

 আজিজী বলেছেন, “এখন আমাদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি ব্যবহার করে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করব।”ঐক্য থাকা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু ঐক্য যখন যুক্তি ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সমন্বয়হীন হয়ে পড়ে, তখন সেটি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে শিক্ষকদের আন্দোলন সব সময়ই জনসমর্থন পেয়েছে, কারণ তারা কখনো শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেননি। কিন্তু শনিবার ক্লাসের মতো সিদ্ধান্ত যদি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে সেই জনসমর্থন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এদিকে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইঁয়া  তার ফেসবুকে লিখেছেন -সকল সরকারি অফিস আদালতের মতো শনিবার স্কুল বন্ধ রাখার পক্ষে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মোঃ বদরুল ইসলাম বলেন, ” উন্নত বিশ্বে সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস হয়। শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা বা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটানো, বিগত পনেরো বছর শিক্ষা খাতের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা অপূরণীয়, আমাদের ক্ষতি পূরণের দিকেই বেশি মনোনিবেশ করতে হবে।”

 বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব, জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন-বাংলাদেশে বিগত দিনেও এমপিওভুক্তশিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য টানা ৫০ দিন, ২০দিন, ৪৪ দিন ২২ দিনসহ রাজপথে বহু আন্দোলন – সংগ্রাম করেছে। তখন নিজেদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নজির দেখা যায়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নজির আছে। চলমান সময়ের আন্দোলনের পর আগামী ৪টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রেখে ক্লাস পরিচালনা করলেই শিখন ঘাটতি পূরণ করা যাবে এমনটা ভাবা যৌক্তিক বলে আমি মনে করিনা। দেশে যখন বন্যা, খড়া, মহামারী এবং যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েছে তখন শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কতটুকু আমরা পূরণের উদ্যোগ নিয়েছি সেপ্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এদেশের কোনো সরকারই তেমন শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব নয়। যদি এমনটা হতো তাহলে স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে শিক্ষক – কর্মচারীদেরকে তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে হতোনা। বিভিন্ন সরকারের আমলে দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন – সংগ্রাম হয়েছে, সেসময় শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে সেটি পূরণে সরকার ও শিক্ষক পক্ষ থেকে তেমন নজির আছে কি? বিগত দিন যার / যাদের নেতৃত্বে বৃহত্তর দাবি পূরণ হয়েছে প্রয়োজনে আমাদের কেহ কেহ তাদেরকেও তুলোধুনো করতে কার্পণ্য করেনি বরং নিজের অবস্থা থেকেও অধিক ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। তারপরও শনিবারের ছুটি নিজেরা বাতিল করে শিখন ঘাটতি পূরণ না করে ক্লাস চলমান দিনে ৮/৮:৩০ টায় ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমেও শিখন ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো) শিক্ষক নেতা মো: এনামুল ইসলাম মাসুূদ বলছেন, সরকারী আদেশ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখবে কতগুলো প্রতিষ্ঠান এটাও দেখার বিষয়। তবে আন্দোলনে যেহেতু কিছুটা শিখন ঘাটতি হয়েছে সেটা পুরণ করতে স্ব উদ্যোগে কেউ প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে রাখতে পারে।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ জাফর আলী বলেন, শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার বিষয়টি আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং প্রত্যাখ্যান করেছি। কেননা শিক্ষক আন্দোলনে আমরা সশরীরে যেমন অংশগ্রহণ করেছি ঠিক তেমনি কর্মবিরতি হিসেবে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমাদের কর্মচারীদের সার্বিক কার্যক্রম বাধ্য হয়েই চালিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মনে করি, শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু না রেখে বার্ষিক পরীক্ষা পাঁচ দিন পিছিয়ে দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রমে যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

সরকার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির দিন পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে পারে।

তাহলে যদি সরকার শনিবার ক্লাস বন্ধ রাখতে বলে, এবং শিক্ষক সংগঠন উল্টো ‘ঘেরাও’র হুমকি দেয়— তবে তা সরাসরি প্রশাসনিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার যদি কঠোর হয়, তাহলে শিক্ষক সমাজ আবারও বঞ্চিত হতে পারে। আর যদি সরকার নরম থাকে, তাহলে “সংগঠননির্ভর প্রশাসন” নামক এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

শিক্ষক মানে সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড। যখন তারা রাস্তায় নামেন, সমাজ সেটা দেখে মর্যাদার সঙ্গে। কিন্তু যখন সেই আন্দোলন থেকে নেতৃত্বের বক্তব্যে হুমকি, একতিয়ার দাবি বা সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত আসে, তখন তা শিক্ষকদের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

“কেউ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”— এই বাক্যটি নেতৃত্বের কর্তৃত্ব দেখানোর চেয়ে বরং একধরনের আতঙ্ক তৈরি করে। শিক্ষক সমাজকে যেখানে অনুপ্রেরণার প্রতীক হওয়া উচিত, সেখানে ভয়ের প্রতীক হয়ে উঠলে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি হারায়।

শিক্ষকদের এই ঘোষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট— তারা এখন কেবল পেশাগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও সংগঠিত। এই সংগঠন যদি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে, তবে শিক্ষার উন্নয়নে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যদি এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের দিকে যায়, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরেই সৃষ্টি হবে বিভক্তি।

এখন সময় এসেছে সরকার ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে একটি ‘সুবিবেচনাপ্রসূত সমঝোতা’ প্রতিষ্ঠার। সরকারকে বুঝতে হবে—শিক্ষক বঞ্চিত হলে শিক্ষা ব্যাহত হয়। আবার শিক্ষকদেরও বুঝতে হবে—সরকারই প্রশাসনিক কাঠামোর শেষ সিদ্ধান্তদাতা।

অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর ঘোষণার পেছনে হয়তো প্রকৃত ইচ্ছা ছিল শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণ করা। কিন্তু সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের ভাষা ও পদ্ধতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।‘বিবেকের তাড়না’ তখনই অর্থবহ, যখন তা ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়, দায়িত্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে হয়।

আজ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে শিক্ষক সমাজ আন্দোলনের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে চাইছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা তাদের হতাশ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার ক্লাসের সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়-এটি নীতিশাস্ত্র, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের মানদণ্ডেরও পরীক্ষা।

যদি এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য হয়, তবে সেটি বাস্তব সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।
কিন্তু যদি এটি শিক্ষক সমাজের ক্ষমতার প্রদর্শন বা সরকারের সঙ্গে দর কষাকষির হাতিয়ার হয়, তবে তা শিক্ষার ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে।

শিক্ষক সমাজের প্রকৃত শক্তি রাজপথে নয়, শ্রেণিকক্ষে। তাই আন্দোলনের পর নতুন পথে ফেরার এই সময়টিতে, প্রয়োজন প্রতিহিংসা নয়—প্রয়োজন প্রজ্ঞা ও আত্মসমালোচনা।বিবেকের তাড়না যেন সত্যিই বিবেকের হয়, ক্ষমতার নয় এই প্রত্যাশা আমার আপনার সকলের।

লেখা: শিক্ষক ও গবেষক। 

শিক্ষাবার্তা /এ/২৩/১০/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.