এমপিও বন্ধে শোকজ: বকশীগঞ্জের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে মাউশিতে তদবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে এবং পূর্বের তারিখ দেখিয়ে পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সভাপতির মেয়ে ও প্রধান শিক্ষকের শ্যালিকাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের আপন ভাতিজাকে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে করা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন তাদের এমপিও কর্তন করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২য় শোকজ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।  তবে দুই দুইটি শোকজ করলেও এই প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে জোর তদবির চালাচ্ছে মাউশির একটি সিন্ডিকেট। 

এর আগে গত ১২ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে “বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়: ২ বছর পর জানা গেল তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক” শিরোনামে এবং ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখে “মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিলেন জামালপুর শিক্ষা অফিসের চার কর্মকর্তা” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় দুইটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

রবিবার (২৯জুন) মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো: নাজিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগেই সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হলেও সেই শোকজের কোন জবাব দেননি তারা। 

মাউশির চিঠিতে বলা হয়,  জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলাধীন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ল্যাব সহকারী (অপারেটর) পদে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জামালপুর সূত্রোক্ত স্মারকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বর্ণিত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কেন উভয়ের বিরুদ্ধে এমপিও জনবল কাঠামোর ১৮.১ এর (গ) এবং (চ) ধারা মোতাবেক বেতন ভাতার সরকারী অংশ কর্তন করা হবে না, পত্র প্রাপ্তির ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলেও তা অদ্যাবধি মাউশি অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়নি।

এমতাবস্থায়, বর্ণিত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কেন উভয়ের বিরুদ্ধে এমপিও জনবল কাঠামোর ১৮.১ এর (গ) এবং (চ) ধারা মোতাবেক বেতন ভাতার সরকারী অংশ কর্তন করা হবে না, তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ০৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে “বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়: ২ বছর পর জানা গেল তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর প্রকাশিত সংবাদের কপি সংযুক্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৪ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক অভিভাবক সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম। বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় মাউশি। জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এই তদন্তের দায়িত্ব দেন জেলা শিক্ষা অফিসের তিন কর্মকর্তাকে। সেই তদন্তে গিয়ে তদন্ত গিয়ে “মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিলেন জামালপুর শিক্ষা অফিসের চার কর্মকর্তা”। তদন্তে গিয়ে অর্থ উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশ করার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে নিজে তদন্ত কর্ম শেষ করে মাউশিতে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। 

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, কোন তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বন্ধের কার্যক্রম শুরু হলে একটি সিন্ডিকেট তাদের বাঁচাতে মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে উঠে পরে লাগে। সেই সিন্ডিকেট সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের এমপিও কর্তনের হাত থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

তবে এই বিষয়ে মাউশির সংশ্লিষ্টদের কেউ কথা বলতে রাজী হয়নি। 

এ বিষয়ে বিএনপির পেশাজীবী সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, মাউশির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে একটি সিন্ডিকেট এই কাজ গুলো করে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এগুলো বন্ধ করা না হলে আওয়ামী আমলের দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের কোন শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে না। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩০/০৬/২০২৫ 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.