তৌফিক সুলতান: এইচএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। এটি কেবল একটি সাধারণ পরীক্ষা নয়, বরং একজন তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন, উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার গঠন এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের অন্যতম প্রধান সিঁড়ি। এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি, সঠিক রুটিন মেনে অধ্যয়ন, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত অনুশীলন এবং মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা।
প্রথমেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো – সময়ের সঠিক ব্যবহার। পরীক্ষার আগে-পরে অনেক শিক্ষার্থী সময় নষ্ট করে দেয় ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা মডেল প্রশ্নপত্রের পিছনে। মনে রাখা দরকার, অযথা ‘কমন প্রশ্ন’ বা ‘ফাঁস’ নামক গুজবে না ভেবে মূল বইকেই গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে, বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজিতে ব্যাকরণ অংশ অনুশীলন করতে হবে নিয়মিত। গণিত বা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতিটি সূত্র, ধাপ ও ব্যাখ্যা বারবার অনুশীলন করতে হবে। মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের সৃজনশীল অনুশীলন জরুরি।
এছাড়া প্রতিদিন রিভিশনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একদিন পড়া হয়ে গেলে তাতেই সন্তুষ্ট না হয়ে, সেটি পরের দিন পুনরাবৃত্তি করতে হবে। মক টেস্ট বা নিজে নিজে সময় ধরে প্রশ্ন সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তুললে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পরীক্ষার ভয় কমে যায়। এক্ষেত্রে ঘরে বসে হোক বা কোচিংয়ে, সপ্তাহে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার অনুশীলন করা উচিত।
পরীক্ষার সময় মাথা ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই গোটা প্রশ্ন পড়ে নিতে হবে, কোন প্রশ্ন আগে করবেন তা ঠিক করে নিতে হবে। প্রথমে যেগুলো ভালো পারেন, সেগুলো দিয়ে শুরু করলে মনোবল বাড়ে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পরিপাটি করে দিতে হবে, পরিষ্কার হাতের লেখা ও গুছানো উপস্থাপন examiner-এর মন জয় করে নেয়। অপ্রয়োজনীয় তথ্য না লিখে মূল কথার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য সংবেদনশীল। অনেক সময় নিজের প্রতি বা আশেপাশের কারও সাফল্যের দিকে তাকিয়ে হতাশা আসে। অথচ মনে রাখা দরকার, আপনার প্রতিযোগী অন্য কেউ নয় – আপনি নিজেই। নিজের আগের অবস্থান থেকে আপনি কতটুকু উন্নতি করছেন, সেটাই প্রকৃত সাফল্য।
নকল বা অসদুপায় গ্রহণ থেকে দূরে থাকতে হবে। একবার নকল করে আপনি হয়তো পরীক্ষায় পাস করবেন, কিন্তু সারাজীবন নিজের বিবেকের কাছে হেরে যাবেন। একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী কখনোই অসততার পথে চলে না। অন্যদিকে, মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ভয়ের কারণে কেউ যেন ভেঙে না পড়ে। নিয়মিত নামাজ বা প্রার্থনা, পরিবার-বন্ধুর সহযোগিতা এবং ইতিবাচক চিন্তা একজন শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এইচএসসি একটি পরীক্ষা – জীবন নয়। এখানে আপনি যতটা ভালো করতে পারবেন, ততটাই আপনার জন্য মাইলফলক তৈরি হবে। তবে এর ব্যর্থতা মানে ব্যর্থ জীবন নয়। সামনে আরও অনেক সুযোগ আসবে, আরও অনেক দ্বার খুলবে। তাই আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। আপনার জন্য যেটা নির্ধারিত, তা আপনি পেয়ে যাবেন – যদি আপনি পরিশ্রম করেন ও নিজের উপর আস্থা রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, সফলতা একদিনেই আসে না, কিন্তু প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টা একদিন বিশাল সফলতায় রূপ নেয়। তাই আজ থেকেই শুরু করুন নতুনভাবে, নতুন আশা নিয়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে। নিজের সর্বোচ্চটা দিন, বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন।
লেখকঃ প্রভাষক – বি.জে.এস এম মডেল কলেজ, মনোহরদী, নরসিংদী।
“মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৪/০৬/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
