নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বরিশালের বাবুগঞ্জে সরকারি আবুল কালাম কলেজের বিক্রি করা ভাঙারি মালপত্রের ট্রাক আটকে ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন দুই বিএনপি নেতা। এ সময় মব সৃষ্টি করে দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন তারা।
অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সোহাগ হাওলাদার একই ইউনিয়ন বাস্তুহারা দলের আহ্বায়ক।
জানা গেছে, কিছু ভাঙারি মালপত্র (স্ক্র্যাপ) সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার স্পট টেন্ডারে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় সেগুলো কিনে নেন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। পরে শনিবার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সেলিম হোসেন কলেজের পক্ষে মালপত্রগুলো ট্রাকে লোড করে দেন।
কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে মালপত্রসহ ট্রাকটি বের হওয়ার সময় গেটে সেটি আটকে দেন সরোয়ার হোসেন এবং সোহাগ হাওলাদার। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের ডেকে এনে মব সৃষ্টি এবং শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সেলিম হোসেনকে লাঞ্ছিত করেন।
এ সময় ‘সরকারি আবুল কালাম কলেজের কোনোকিছু ক্রয়-বিক্রয় করতে হলে বিএনপি নেতাদের মাধ্যমেই করতে হবে, নাহলে ১৭ বছর পালিয়ে থাকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দিতে হবে’–প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দিয়ে দুই শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ দুই শিক্ষকের।
পরে ট্রাকচালককে জিম্মি করে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্পট নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় ভাঙারি মালপত্রগুলো কিনি। টেন্ডার কমিটির দুই স্যারের কাছে টাকা জমা দিয়ে সেগুলো বোঝাই করে ট্রাক নিয়ে বের হওয়ার সময় গেটে ট্রাকটি আটকে দেন বিএনপি নেতারা। চোরাই পণ্য আখ্যা দিয়ে আমাকে হেনস্তা এবং স্যারদের অপমান-অপদস্ত করেন তারা। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার এবং স্যারদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নেন তারা। টাকা পেয়ে রাত ১০টার পরে ট্রাক ছেড়ে দেন বিএনপি নেতারা।’
জানতে চাইলে প্রভাষক সেলিম হোসেন বলেন, ‘টেন্ডার কমিটির সদস্য হিসেবে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে স্ক্র্যাপ বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম আমি এবং সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম স্যার। ট্রাকটি ক্যাম্পাসে দুপুরে ঢুকলেও মালপত্র লোড করে বের হতে রাত প্রায় পৌনে ৯টা বেজে যায়। বের হওয়ার সময় গেটে ট্রাকটি আটকে দেন সরোয়ার হোসেন এবং সোহাগ হাওলাদার। রাতে আমরা চোরাই মালপত্র বিক্রি এবং পাচার করছি–এমন অভিযোগ তুলে লোকজন ডেকে মব সৃষ্টি করা হয়। আমাদের লাঞ্ছিত করে ৪৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।’
অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীম আহসান খান বলেন, ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্ক্যাপ বিক্রি করে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ওই স্ক্র্যাপ হস্তান্তর করার সময় টেন্ডার কমিটির দুই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়ে জিম্মি এবং লাঞ্ছিত করে ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে জেনেছি। আগামী বৃহস্পতিবার শিক্ষক কাউন্সিলের সভা শেষে মামলা করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘টেন্ডার ছাড়া ভাঙারি মালপত্র বিক্রি করে রাতে পাচার করার খবর পেয়ে ট্রাক আটক করা হয়। দুই শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতন বা মারধর করা হয়নি। আমি ঘটনাস্থলে পরে গিয়েছি। সেখানে এলাকার অনেক লোক ছিল। ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা কে বা কারা নিয়েছে তা আমি জানি না।’
সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘কলেজের অবৈধ মালপত্র আটক করেছে এলাকাবাসী। আমি খবর পেয়ে পরে সেখানে গিয়েছি। শিক্ষকদের মারধর বা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
শিক্ষাবার্তা /এ/১৯ /০৫/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

