দূর্যোগকালীন এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের বিকল্প পদ্ধতি

ড. মোঃ শরিফুল ইসলামঃ বিশ্বব্যাপী আবারও করোণার পূর্বাভাস ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বন্যার আশংকা ব্যক্ত করেছেন। সামনে নির্বাচনের মৌসুম, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইত্যাদি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে মাউশি ডিজি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িঁয়েছে। এখনও তেমন হারে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ সময়কে যদি আমরা পজিটিভ ধরি তাহলে স্বাস্থবিধি মেনে অন্তত পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তবে অটোপাশ, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা বা পেছানো মোটেই কাম্য নয়।

আবার এই এইচ,এস,সি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে মেডিকেল, বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং সহ নানা বিষয় নিয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে, তাই এই পরীক্ষা ও মূল্যায়ণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। অনেকে সিলেবাস কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন, সেক্ষেত্রে সমস্যা হলো আবার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন, বিতরন ও গোপনীয়তার । তাই এখন দরকার অল্প দিনে পরীক্ষা শেষ করা, অল্প দিনে ফলাফল ও অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। উপরোক্ত ৩টি বিষয় বিবেচনা করলে সকাল বিকাল পরীক্ষা গ্রহন ছাড়া বিকল্প নেই। এইচ এস সি সমমান পরীক্ষার জন্য এই ধারা অনুসরণ করা যেতে পারে। সে হিসেবে আমি নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো পেশ করছি।

প্রস্তাব-০১:
১ম দিন- ইংরেজি। এই দিন ৩০% শিক্ষার্থী শুধু ১ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। আবার কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা একটু কঠিন হলে রাগে, ক্ষোভে আর পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে না। তাই ইংরেজি পরীক্ষা আগে নিলে প্রথম দিনের পর ৩০% শিক্ষার্থী কমে যাবে।

২য় দিন- আই সি টি+ ১ বিষয়ের ব্যবহারিক। এ দিনেও পুরাতন শিক্ষার্থী থাকে। তাহলে ২ দিন পর দেখা যাবে ৪০% শিক্ষার্থী কমে যাবে।

৩য় দিন- বাংলা

৪র্থ দিন- পদার্থ/ হিসাব/ (পৌরণীতি/……). ৫ম দিন- রসায়ন/ ব্যবসা/( সমাজ/……) ৬ষ্ট দিন- জীব/ ফিন্যন্স/ (ইতিহাস/ যুক্তি/.. ) ৭ম দিন- মানবিকের কেউ কোন বিষয় বাদ পড়লে যেমন ৬ষ্ঠ দিনে ইস. ইতি পরীক্ষা দিতে গিয়ে যুক্তিবিদ্যা বাদ পড়েছে, সেক্ষেত্রে তার যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আলাদা সেটে নেওয়া যেতে পারে ।
* বিজ্ঞান ও বাকী শিক্ষার্থীদের ২ টি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা।
[ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৬টি শাখা রয়েছে। শুধুমাত্র মানবিকে নৈর্বাচনিক বিষয় রয়েছে ৬টি, ভবিষতে গুচ্ছভিত্তিক ৩ টি বিষয়ে আনা যেতে পারে। বাকী ৫টি শাখার জন্য নির্ধারিত ৩টি নৈর্বাচনিক বিষয় রয়েছে। ] এভাবে পরীক্ষা নিলে ৭ দিনে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব।

প্রস্তাব -২:
একসাথে ১ম ও ২য় পত্রের শুধু সৃজনশীল প্রশ্নপত্র আগে দিয়ে শিক্ষার্থীর পছন্দমত এক পত্রে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে ।

প্রস্তাব -৩:
১ম পত্রে ৫০% প্রশ্নোত্তর ও ২য় পত্রে ৫০% প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।

প্রস্তাব -৪:
নিরাপদ দুরুত্ত বজায় রাখার স্বার্থে লটারী করে অর্ধেক শিক্ষার্থী সকালে ও বাকী শিক্ষার্থী বিকালে আলাদা সেটে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে ।

প্রস্তাব -৫:
নিরাপদ দুরুত্ত বজায় রাখার স্বার্থে আবশ্যিক বিষয়ের পরে মানবিকের শিক্ষার্থী সকালে ও বাকী শিক্ষার্থী বিকালে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে । এক্ষেত্রে ১/২ টি বিষয় ছাড়া আলাদা সেটের দরকার নেই।

প্রস্তাব -৬:
৩০% এর মত শিক্ষার্থী পুরাতন। তারা “আদু ভাই” হতে চলেছে। শুধু এদেরকে প্রতি বেঞ্চে ১ জন করে নিরাপদ দূরুত্তে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। বাকীদের এভাবে ২ ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

প্রস্তাব -৭:
রেড জোন চিহ্নিত জায়গার পরীক্ষা পরবতীতে নেওয়া যেতে পারে ।

প্রস্তাব-৮
যে চাইবে সে নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ বিধি মেনে পরীক্ষা দিতে পারবে। অন্যথায় পরবর্তীতে বা পরের বছর সুযোগ রাখা যেতে পারে।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট , সিলেট

“মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/০৬/২০২৫ 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.