উইলস’র প্রিন্সিপালের পদত্যাগ ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গণ চাই:ছাত্র অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার  স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক কর্মচারী ছাত্র অভিভাবকরা দলীয় রাজনীতি মুক্ত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। তারা দলীয় লেজুড়বৃত্তির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

মঙ্গলবার  (১৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সামনে শিক্ষকরা ২ টি দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেন। পরে বোর্ড চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিদর্শক  বরাবর প্রিন্সিপালের পদত্যাগ ও আর্মি প্রিন্সিপালের দাবিতে সবার স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

তারা উল্লেখ করেন বর্তমান প্রিন্সিপাল শিক্ষক-কর্মচারিদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, স্বৈরশাসন কায়েম করেছে।

কথায় কথায় সোকজ( কারণ দর্শানোর নোটিশ) ও মাসের পর মাস বেতন কর্তন করেছে। তার অনুগত না হলে অভিভাবক দিয়ে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত নিয়েছে এবং শিক্ষককে সাসপেন্ড করেছে। কারো এক মাসের আবার কারো ২/৩ মাসের বেতন কর্তন করেছে। শিক্ষককে  দাসে পরিণত করা হয়েছে। সত্য ন্যায়ের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

শিক্ষকরা আরও বলেন,রাজধানীর ঐতিহ্যেবাহী প্রতিষ্ঠানটি দলীয় রাজনীতির কালো থাবা থেকে মুক্ত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হওয়া শিক্ষক নাজমা হোসেন লাকী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট প্রিন্সিপাল ও কমিটির লোকেরা আমাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করে। আমি আওয়ামী লীগ এর নেতা সম্রাট থেকে শুরু করে ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত সকল নেতার কাছে গিয়েছি চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য। কিন্তু কেউ আমার কথার কর্নপাত করেনি। অবশেষে মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে মর্মে রায় দেয় এবং চাকরিতে বহালের আদেশ দেন। কিন্ত আজ পর্যন্ত আমাকে আমার পদ ফিরিয়ে দেয়নি।আমি এই জুলুমের হাত থেকে মুক্তি চাই।

আরেক শিক্ষক মো. কাইয়ুম বলেন, আমি উনার অনুগত না হওয়ায় আমাকে ৬ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করে এবং আমার বেতন কাটে। ৩০০ টাকার স্টাম্পে ওনারা লিখে এনে আমার সই নেয়। এই কথা বললে জীবনটাও যাবে বলে হুমকি দেন।

জানতে চাইলে শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন,ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের অব্যাহতির পরেও চেয়ারে জগদ্দল পাথরের মত নিলজ্জভাবে বসে থাকা এটা অনুচিত। আমি আশা করবো উনি অবৈধ দেনদরবার বাদ দিয়ে সাধারণ শিক্ষকের মত আচরণ করবেন নতুবা শিক্ষকরা উনার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রিন্সিপালকে(ভারপ্রাপ্ত)  ফোন দিলে উনি রিসিভ করেনি।

এ্ বক্তব্য জানতে এডহক কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলমকে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক বলেন আমরা বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এ/১৪/০৮/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.