ড. কামরুল হাসান মামুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় সবকটি সরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স পড়ানো হয়। তাছাড়া অধিকাংশ কলেজেই এইচএসসি ও ডিগ্রি পাসকোর্স চালু আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শুধু অনার্স ও মাস্টার্স পড়ানো হয়, তার জন্য ৩০ জন শিক্ষকও যথেষ্ট নয়। আর কলেজে অনার্স, মাস্টার্স, এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস্ কোর্স থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ কলেজেই পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকের সংখ্যা ২ থেকে ৪ জন। কী পরিমাণ চাপ! এই কজন শিক্ষক যদি চানও তাহলেও কি সব ক্লাস নেওয়া সম্ভব? তাই সত্যিকার অর্থে কলেজে ক্লাস হয় না।
বিসিএস দিয়ে যারা শিক্ষা ক্যাডারে ঢুকে তাদের প্রমোশনও হয় না। তারা অনার্স-মাস্টার্স পড়ায় কিন্তু তারা পিএইচডি করার জন্য প্রাইম মিনিস্টার্স স্কলারশিপ খুব কম পায়। অথচ কেবল এদেরই দেওয়া উচিত ছিল। এর অর্থ হলো কলেজগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক নাই বললেই চলে। অন্যদিকে কলকাতার দিকে তাকান। সেখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে শুধু অনার্স পড়ানো হয়। প্রতিটি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম ১২ থেকে ১৫ জন শিক্ষক থাকে। তাদের কিন্তু এইচএসসি, ডিগ্রি পাসকোর্স এবং মাস্টার্স নেই। তথাপি এত শিক্ষক।
অন্যদিকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের দিকে তাকান। যুগ্ম সচিবের পদ আছে ৫০২টি কিন্তু যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত আছেন ৯০০-র বেশি। অর্থাৎ নিয়মিত পদের চেয়ে ৪০০ জন যুগ্ম সচিব বেশি। অতিরিক্ত সচিবের নিয়মিত পদ আছে ২১২টি। কিন্তু কর্মরত আছেন প্রায় দ্বিগুন। এইদিকে উপসচিব হিসাবে কর্মরত আছেন প্রায় ২০০০ কিন্তু পদ আছে ১ হাজার ৭৫০টি। এরকম সচিব বা অন্যান্য পদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। বুঝতে পারছেন? শিক্ষা ক্যাডারে শিক্ষকদের পদ সংখ্যা, প্রমোশন কত অবহেলিত? অথচ এখানেই জনবল সবচেয়ে বেশি দরকার না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবার বুঝতে পারছেন সরকারের কাছে শিক্ষা কতটা অবহেলিত। শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে শিক্ষা চরম বৈষম্যের শিকার।
লেখক: অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৭/০৫/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
