নোয়াখালীঃ দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট গড়ে তুলতে নোয়াখালীর কবিরহাটে নির্মাণ করা হয়েছে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দুটি ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৮৫ জন। তবে পুরো ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ ছাড়া আর কোনো জনবল নেই। কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। অচিরেই এ সংকট সমাধন হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, রান্নার বার্বুচি নেই। অন্যান্য লোকবলও নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল থাকলেও সেখানে বেড ও টেবিল-চেয়ার কিছুই নেই। পুরো ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছাড়া আর কিছুই নেই। ফলে শিক্ষাজীবনের শুরুতে হতাশ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ক্যাম্পাস ফাঁকা দেখা গেছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি ভবন। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে চেয়ার-টেবিল ও ফাঁকা ক্লাস রুম। চারপাশের অন্যসব কক্ষেই ঝুলছে তালা। এক পর্যায়ে আবাসিক হল থেকে আসেন মো. মিনহাজুর রহমান, মো. ইফরান, ইমতিয়াজ হোসেনসহ সাত-আট শিক্ষার্থী। তারা জানান, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে তারা উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন আইএইচটিতে। কিন্তু শুরুতেই শুধু নেই আর নেই-এর গল্প। পাঁচটি বিভাগের মধ্যে ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও কোনো শিক্ষকই নেই।
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীর মো. কামাল মৃধার ছেলে। বরিশালে আট শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন নোয়াখালীর কবিরহাটের আইএইচটিতে। কিন্তু তার স্বপ্ন এখন অনেকটাই ম্লান হওয়ার পথে। এখানে এসে দেখেন কোনো শিক্ষক নেই, ল্যাবে নেই যন্ত্রপাতি। কোনোভাবে বই পড়ে পড়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শুধু। মাঝে মাঝে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ক্লাস নিচ্ছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলার মো. মিনহাজুর রহমান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে পাস করার পর আমরা ল্যাব টেকনোলজিস্ট হব। অথচ বিষয়ভিত্তিক কোনো শিক্ষকই পাচ্ছি না। ল্যাবেও নেই যন্ত্রপাতি। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নেই, বাবুর্চি নেই। নিজেরাই আয়োজন করতে হচ্ছে খাওয়ার।’
শুধু যে শিক্ষক নেই তা নয়, বিষয় অনুযায়ী নেই ইনস্ট্রাক্টর। আবাসিক হল থাকলেও নেই বেড এবং চেয়ার-টেবিল। যেখানে ভর্তুকি পাওয়ার কথা সেখানে নিজেদের টাকা খরচ করেও মিলছে না ভালো খাবার। মিনহাজুর ও জাহিদুলের মতো অবস্থা ইনস্টিটিউটের ৮৫ জন শিক্ষার্থীর। এমন অবস্থায় তারা হতাশ ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে। বর্তমানে দুটি ব্যাচে ৮৫ শিক্ষার্থী রয়েছেন। ১৫ শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। ২০ জনের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও সব পদই শূন্য। পুরো ইনস্টিটিউট চালাচ্ছেন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ।
সংকটের কথা স্বীকার করে ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এসব সমস্যা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বহুবার বলা হয়েছে। দফায় দফায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখাও করা হয়েছে। সবাই আশ্বস্ত করছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না কেউ। আমি এবং অধ্যক্ষ ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের জন্য অতিথি শিক্ষক নেয়া হচ্ছে।’ তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান মিলবে বলে আশাবাদী উপাধ্যক্ষ ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৩/২০২
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
