।। ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন।।
হিমালয়কন্যা! নামটা শুনে চলে যেতে ইচ্ছে করে সবার। কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী, একই সঙ্গে নেপাল ভ্রমণের গেটওয়ে। কাঠমান্ডুতে দেখতে পারবেন বসন্তপুর দরবার স্কয়ার, শম্ভুনাথ মন্দির, পাঠান দরবার স্কয়ার, ভক্তপুর দরবার স্কয়ার, বুদ্ধনাথ মন্দির ইত্যাদি।
আমিও ৭ মার্চ যাত্রা শুরু হয় নেপালে পথে এই যাত্রা-শেষ হয় ৯ মার্চ। নেপালে সার্কভুক্ত দেশ তথা বাংলাদেশিদের জন্য বিনামূল্যে অন-এরাইভাল ভিসার ব্যবস্থা আছে। নেপালের ভিসা পেতে আপনাকে নেপাল এমব্যাসির
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অন-এরাইভাল ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম পূরন করতে হবে। ফর্ম পূরনের সময় আপনাকে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে-
• পাসপোর্ট সাইজ ছবি
• পাসপোর্ট
• এয়ারটিকেট
• হোটেল বুকিং
আপনি ঘরে বসেই সকল তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করে সাথে নিলেই এয়ারপোর্টে সর্বোচ্চ ৩০দিনের ভিসা পাবেন কোন ফি দিতে হবে না।
ফরমটি আপনি নেপাল এয়ারপোটে গিয়েও পূরণ করতে পারবেন তবে সেটি একটু ঝামেলার কাজ। দেশ থেকে করে নিলে সরাসরি ইমিগ্রেশনে যাবেন অল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে ভিসা করে দিয়ে দিবে।
আপনি চলে যাবেন। এয়ারপোর্ট থেকে বের হলেই আপনি সারি সারি গাড়ি পাবেন তবে সঠিকভাবে কয়েক দফা কথা বলে গাড়ি ভাড়া ঠিক করবেন অন্যথায় আপনাকে ঝামেলায় পড়তে হবে।
International Conference on Global Studies-এর দিনব্যাপি সেমিনারে অংশ নিতে আমার নেপাল যাওয়া। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বহুদেশ ভ্রমণের সুযোগ আমার হয়েছে। কিন্তু নেপাল এই প্রথম। মাত্র দুইরাত ছিলাম তাও থামেল এলাকায়।
থামেলে বহু বাংলাদেশী ভাইয়ের দোকান রয়েছে যেমন-ঢাকা হোটেল, কক্সবাজার হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেলসহ খাবারের বহু দোকান। শত শত আবাসিক হোটেল রয়েছে দামও অনেক কম। আমরা দুইজন ছিলাম দুই রাতের ভাড়া মাত্র ৭হাজার সকালের নাস্তাসহ।
রাস্তাঘাট, চলাচল তেমন উন্নত নয়-তবে জিনিসের দাম আমাদের থেকে বহু কম। পরিশুদ্ধ ভেজালের অবস্থা দেখিনি। মানুষজনও খুব অতিথি পরায়ন। ভদ্র। স্মার্ট। আনোয়ার ভাই আমি মিলে দিনব্যাপি ঘুরাঘুরি করলাম চারদিক তাকিয়ে মনে হয়েছে আমরা সব দিকে অনেক উন্নত, শুধু সু-শাসন ও দামের বিষয়টি ব্যতিত। নাগরিক সন্মানে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে বলে মনে হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর অল্প কিছু ডলার এক্সচেঞ্জ করে নিন বিমানবন্দরের মানি এক্সচেঞ্জ বুথ থেকে। বিমানবন্দরে সাধারণত রেট কম দেয় তাই খুব বেশি টাকা এক্সচেঞ্জ করার দরকার নেই। শহর থেকে বাকিটা করে নেবেন।
বিমানবন্দরের বুথে ভারতীয় রুপি এক্সচেঞ্জ করে না। মানি এক্সচেঞ্জ করার পর নেপাল টেলিকমের একটা সিম কিনে নিন। ৫০০ নেপালি রুপি পড়বে সিমের দাম।
উপমহাদেশের-বিশেষত বাঙালি পর্যটকদের কাছে নেপাল ঘুরতে যাওয়ার আদর্শ জায়গা। নেপালের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগলিক বৈচিত্র্য একে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ও কৌতূহলপ্রদ করেছে। দেশটির মধ্যে এক ধরনের ধ্যানমগ্নতা রয়েছে যা আপনার আত্মাকে জাগিয়ে তোলে।
নেপাল ভ্রমণকারীরা দেশটির সৌন্দর্য ও বিশালত্বে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েন। “নেপাল” শব্দটা শুনলে প্রথমেই আমাদের মাথায় যা আসে তা হলো হিমালয় ও মাউন্ট এভারেস্ট-পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
নেপাল বৃহদায়তন হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত। নেপালের মানুষ শান্ত, নম্র ও স্থির প্রকৃতির। নেপালি ভাষায় বাংলা, হিন্দি, সংস্কৃত অনেক শব্দ আছে। নেপালিরা মূলত হিন্দিতে কথা বলে।
দুই দিনের মহাযাত্রা শেষে অবশেষে দেশের পথে। মাত্র ১ঘন্টা ৩মিনিটের বিমান পথ বেশ আনন্দময় হয়েছে বলে মনে হয়। সময় সুযোগ করে আপনিও দেখে আসুন হিমালয় কন্যাখ্যাত নেপালকে।
লেখক-নজরুল গবেষক
শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/১১/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
