রাগিব হাসানঃ বাংলাদেশের স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম ‘এসো নিজে করি’ নামের সেই তামাশার কথা, যেখানে সেরা স্কুলের শিক্ষকেরাও কাল্পনিক টেস্টটিউবে কাল্পনিক দ্রবণ আর তাদের বিক্রিয়া নিয়ে কাল্পনিক এক্সপেরিমেন্ট করতে বাধ্য হতেন। আশি আর নব্বইয়ের দশকের সেই শিক্ষা-এক্সপেরিমেন্টটা বিদেশি স্কুল বা টেক্সটবুক থেকে কপি করা হয়েছিলো, বাংলাদেশের গ্রামের বা এমনকি শহরের একটা স্কুলেও ল্যাব ইকুইপমেন্ট থাকে না তেমন, সেটা ভাবা হয় নাই। সরাসরি কপিপেস্টের কুফল আর কি। কিন্তু আসলেই কি বাংলাদেশের স্কুলের শিশুদের বিজ্ঞান হাতে কলমে দেখানোর উপায় নাই? এমন কিছু দিয়ে যা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও থাকবে? অবশ্যই আছে।
জবা ফুল নাই এমন মরুভূমি মার্কা জায়গা তো বাংলাদেশের কোথাও নাই। গোটা কয়েক জবা ফুল আর একটা লেবু আর সাবান সবখানেই জোগাড় করা সম্ভব। তাহলে সেই জবা ফুলের পাতা কাগজে ঘসে সহজেই বানানো যায় লিটমাস পেপার। আর সেটা দিয়ে লেবুর রস ঢেলে এসিডের কারণে কাগজের রঙ পাল্টানো দেখানো যায়। এতে খরচ নাই বললেই চলে। অথচ শিক্ষার্থীরা সহজেই শিখতে পারবে এসিড ক্ষারকের কথা। অতবা মোমবাতি আর গ্লাস। সেটা দিয়ে শেখানো যায় বাতাসের কতটুকু অক্সিজেন আছে, তার কথা। অথবা এক মুঠ ছোলা পানিতে ভিজিয়ে রেখে শেখানো যায় অংকুরোদগমের ধাপগুলো। এগুলো করতে পয়সা লাগে না বেশি। গ্রামের স্কুলেও চলে। লাগে না কোনো যন্ত্রপাতি। যেটা লাগে সেটা হলো একটু পরিকল্পনা। বিদেশি বিজ্ঞান বইয়ের কপি না করে দেশের উপকরণে বিজ্ঞানের মজার বিষয় শেখানোর চেষ্টা।
আমি জানি বাংলাদেশের অনেক লেখক এসব বিষয়ে বই লিখেছেন। নতুন কারিকুলামের বিজ্ঞান বই আমি পড়িনি, হয়তো সেখানে আছে এগুলো, অথবা নেই। কিন্তু হাতে কলমে বিজ্ঞান শেখানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ বিজ্ঞান মুখস্থের বিষয় না, সেটা বোঝার বিষয়, আর সেই বিজ্ঞান দিয়ে বিশ্বকে আমরা চিনতে পারি। বাংলাদেশের গ্রামের একটি শিশুকে সেই সুযোগটা দেয়া আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আশা করি শিক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা এ বিষয়ে ভাববেন। আগামীর বিশ্ব হবে দক্ষতা ভিত্তিক। বাংলাদেশের লোক বেশি, সেটা দিয়ে আর আগানো যাবে না। দরকার হবে দক্ষ মানুষের। যার ভিত্তিটা গড়া যাবে স্কুল থেকেই।
লেখক: গবেষক।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/০১/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
