এইমাত্র পাওয়া

মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, এখনও ছাপা হয়নি কয়েক কোটি বই

ঢাকাঃ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে এবারও পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের ডেডলাইন। মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, এখনও ছাপা হয়নি কয়েক কোটি বই। এছাড়া ছটি বইয়েরতো পাণ্ডুলিপিই চূড়ান্ত হয়নি। মুদ্রণ সমিতি বলছে, এ সময়ের মধ্যে শতভাগ বই ছাপানো কঠিন। তবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ বই ছাপানো শেষ হবে বলে আশা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে কোটি কোটি পাঠ্যবই তুলে দেয়ার উৎসব যেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক।

প্রতিবছর পয়লা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে ‘বই উৎসব’ উদ্‌যাপন করে আসছে সরকার। এবার জাতীয় নির্বাচন সামনে এলেও আনুষ্ঠানিকতা না পিছিয়ে বছরের প্রথম দিনেই হচ্ছে বই উৎসব। ধারাবাহিকতায় যেন ছেদ না পড়ে, সেজন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা সংশ্লিষ্টদের!জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান জানান, শুরুর দিকে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল, দ্বিধাদ্বন্দ ছিল। কিন্তু এখন সেটা নেই। সরকারও চায় বছরের প্রথম দিন বই উৎসব করতে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বই উৎসবের তারিখ পাওয়া সাপেক্ষে সব নির্ধারিত হবে। ১ জানুয়ারি বই উৎসব হবে, সেটা ধরেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে সারা দেশে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ পাঠ্যবই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকের বই ছাপানোর সন্তোষজনক অগ্রগতি থাকলেও পিছিয়ে মাধ্যমিক স্তর। এখনো পর্যন্ত কয়েক কোটি বই ছাপা প্রক্রিয়ার বাইরে। সবচেয়ে পিছিয়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণি। এই দুই শ্রেণির বিজ্ঞান বই এবং ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই ছাপানোতো দূরের কথা, পাণ্ডুলিপিই চূড়ান্ত হয়নি।

এনসিটিবির গাফিলতিতে ছাপার কাজে মন্থর গতি বলে অভিযোগ করে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ খান জানান, ছাপার সার্বিক অগ্রগতি বিবেচনায় কোনোভাবেই বছরের প্রথম দিনে সব বই স্কুল পর্যায়ে পৌঁছানোতো দূরের কথা, ছাপাই প্রায় অসম্ভব।

এনসিটিবির সূত্র জানায়, গত শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকের বই ছাপানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এবার বই ছাপানোর কাজ আগেই শুরু হয়েছে। তবে, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে সব বই নতুন কারিকুলামের। তাই বারবার সংশোধনের কারণে এখনো পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করা যায়নি।

যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলছেন, ছাপা কাজে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। কিছু বই ছাপানো বাকি থাকলেও নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে। কাজেই বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া নিয়ে যে শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সময়

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে আশা বোর্ডের।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/১২/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.