খাদিজা আক্তারঃ শিক্ষা মানুষের চিন্তার উৎকর্ষসাধন এবং অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। তবুও যেন দেশের বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে শিক্ষাক্ষেত্রে খুব একটা উন্নয়ন হচ্ছে না, যতটা হচ্ছে শহরাঞ্চলে। বিশেষ করে গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বহু সমস্যায় জর্জরিত এ বিদ্যালয়গুলো, যেগুলোর সমাধানের প্রতি কারও নেই কোনো আগ্রহ। গ্রামের বহু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় না। যাও বা নিয়োগ দেওয়া হয়, তাতেও যোগ্যতার মাপকাঠি কমই থাকে। এতে অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষক অপর্যাপ্ততার কারণে ক্লাসের ধারা ঠিক থাকে না। সাধারণত একজন শিক্ষক নিজ বিষয়ে অধিক দক্ষ হয়ে থাকেন। কিন্তু তাকে যদি অন্য বিষয়েও ক্লাস নিতে হয়, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের সেই বিষয়ে সঠিকভাবে বোঝাতে ব্যর্থ হবেন, এটাই স্বাভাবিক। আবার কখনো কখনো দেখা যায়, শিক্ষক অপর্যাপ্ততার কারণে বিদ্যালয় কর্তৃক অস্থায়ীভাবে কিছু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তারা অল্প দক্ষতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হয়।
শহরাঞ্চলে লক্ষ করলে দেখা যায়, অভিভাবকরা সন্তানদের প্রতিদিনের বাড়ির কাজ এবং শিক্ষকের পাঠদান সম্পর্কে অধিক সচেতন থাকেন। গ্রামের অধিকাংশ অভিভাবক এসব ব্যাপারে অসচেতন থাকেন। তারা শিক্ষকদের পাঠদান সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখেন না। এতে কিছু শিক্ষক অবহেলার সঙ্গে পাঠদান করেন। মাধ্যমিক পর্যায়টা শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করার উপযুক্ত সময়। এ পর্যায়ে এসে একজন শিক্ষার্থী বুঝতে শুরু করে, জানতে শুরু করে জ্ঞান অর্জন তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এককথায়, মাধ্যমিক স্তরটাকে বলা যেতে পারে জ্ঞান অর্জনের শিকড়। কিন্তু এখানেই শিক্ষকরা করে থাকেন অবহেলা।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে; নৈতিক, মানসিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। গ্রামাঞ্চলের অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই গ্রন্থাগার নেই। যে বিদ্যালয়গুলোয় গ্রন্থাগার নেই, সেই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে খুব একটা অবগত নয়। ফলে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করতে পারে না তারা। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে সমৃদ্ধ করতে বিজ্ঞানাগারের কোনো বিকল্প নেই। গ্রামাঞ্চলের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় আমরা এক্ষেত্রে করুণ দৃশ্য দেখতে পাই। সেখানে অনেক বিদ্যালয়েই নেই কোনো বিজ্ঞানাগার। না আছে ভালো বিজ্ঞান শিক্ষক না আছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দেখা যায় অল্প কিছু সরঞ্জাম থাকে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার ছাড়াই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশে নবম শ্রেণি থেকে বিজ্ঞানবিষয়ক কয়েকটি নির্দিষ্ট বই পড়ানো হয় এবং প্রতিটি বিষয়ে ব্যাবহারিক শিক্ষার জন্য কিছু পাঠ থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ব্যাবহারিক ক্লাস না পেয়ে ব্যাবহারিকের নম্বর ঠিকই পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছামতো নম্বর দিয়ে থাকেন। ফলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান সম্পর্কে বাস্তবিক কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।
দেশকে এগিয়ে নিতে সবার আগে এই বড় অংশের উন্নয়ন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উচিত সমস্যাগুলোর সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ক্লেখকঃ শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
