এইমাত্র পাওয়া

মেট্রোরেল: শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি

ঢাকাঃ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আতঙ্কের নাম যানজট। রাস্তায় অনেক কর্মঘণ্টা অপচয় করতে হয় জনসাধারণকে। এর থেকে উত্তরণের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তারমধ্যে অন্যতম যুগান্তকারী সংযোজন মেট্রোরেল। সবকিছুর মতো এখানেও প্রাধান্য পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সুবিধা জন্য টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) চালু হয়েছে টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন। এতে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। মেট্রোরেলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তারা। তবে মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মেট্রোরেল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা বলেন, ‘মেট্রোরেল একটা স্বপ্নের জায়গা। একটি দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয় যখন তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকরই সকাল ৮টায় ক্লাস থাকে। এ কারণে কেউ উত্তরা থেকে রওনা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যে এসে ক্লাস ধরতে পারবে। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের একটি সুন্দর উদাহরণ মেট্রোরেল।’

টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন হওয়ায় বিষয়ে প্রথম দিকের বিরোধিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শব্দ দূষণ, মাত্রাতিরিক্ত লোক সমাগম নিয়ে অনেকেই প্রথম দিকে বিরোধিতা করেছিল। তবে এগুলো থাকবেই। সর্বসাকুল্যে এর ফলাফল অধিকাংশই ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার জন্য যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে গেলো। তাছাড়া মেট্রোরেলের মতো অন্য কোনও যানবাহন এতো নিরাপদ না। এতো সুন্দর যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তানবীর আহাম্মদ বলেন, ‘টিএসসিতে মেট্রোরেল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ। বিশেষ করে যারা অনাবাসিক ছাত্র, তাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে। এর আওয়াতাভুক্ত এলাকাগুলোতে যেকোনও প্রয়োজনে এখন খুব দ্রুত যেতে পারবো।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৈবুর রহমান সিফাত বলেন, ‘টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মিরপুর, উত্তরা থেকে পড়তে আসে। ঢাকার রাস্তার তীব্র যানজট ও বাস সেক্টরের দুরবস্থা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। আমাদের সহপাঠীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে দুর্বিষহ একটি সময় পার করে ক‍্যাম্পাসে পৌঁছাতো। বর্তমানে তারা মিরপুর থেকে ২০ মিনিটে এবং উত্তরা থেকে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারবে।’

শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের অধিক ভাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বহন করা কষ্টসাধ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেট্রো কর্তৃপক্ষ যাতে হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করে, সে দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নজর দেবে বলে আশা করি।’

জান্নাতুল মাওয়া নামে আরেক বলেন, ‘টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন হওয়ায় প্রথম দিকে আমরা অনেকেই বিরোধীতা করেছিলাম। তখন আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হবে। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে। কিন্তু যখন দেখি সকালে ক্লাস আর মিস হবে না, যানজটের কারণে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হবে না, তখন ভালো লাগা কাজ করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কর্মচারী লাবলু বলেন, ‘আমার বাসা উত্তরা। আমাকে প্রতিদিন সকালে এসে টিএসসিতে আমার অফিস খুলতে হয়। রাস্তায় যানজটের কারণে আমার অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। প্রায়ই যথাসময়ে অফিস খুলতে পারি না। এখন মেট্রোরেলে যথাযথ সময়ে এসে অফিস করতে পারবো। বাংলাদেশের জন্য মেট্রোরেল একটি সুন্দর ও যুগান্তকারী সংযোজন।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/১২/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.