প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের জমি দখলের অভিযোগ

সুনামগঞ্জঃ জেলার শাল্লা উপজেলার শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র তালুকদারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, স্কুলের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ ও উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের সাবেক শিক্ষকরা। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা, স্কুল থেকে বদলি এবং স্কুলের জমি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিন্তাহরণ চৌধুরী বলেন, দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কাজল কান্তি চৌধুরীর মৃত্যুর পর সহকারী শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র তালুকদার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। অথচ তিনি বিভাগীয় মামলায় শাস্তিস্বরূপ তিরস্কারপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাপস কুমার রায়কে অবহিত করা হলেও তিনি রহস্যজনক কারণে তাকে প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি স্কুলের জমিতে গৃহনির্মাণ, স্কুল আঙ্গিনায় পারিবারিক সবজি বাগান স্থাপন, ম্যানেজিং কমিটিতে নিজের স্ত্রীকে অন্তর্ভুক্তি, উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র ৩০ হাজার টাকা রঙের কাজে ব্যয় করা ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি। বাকি টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার (তাপস কুমার রায়) ও প্রধান শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র তালুকদার মিলে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র তালুকদারের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ অমান্য করে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা স্বাক্ষর প্রদানসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

তারা বলেন, ‘২০১৯ সালে অভিযোগের পর ডিপিও জিল্লুর রহমান তাকে শাস্তিস্বরূপ ডেপুটেশন বদলি করে আঁটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠালে বদলির আদেশ অমান্য করে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (দীন মোহাম্মদ) সহায়তায় শিবপুর স্কুলেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।’ গত ৬-৭ বছর ধরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় স্নাতক ডিগ্রিধারী মহিলা বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে অনুমোদন আনার জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু শিক্ষক শৈলেন চন্দ্র তালুকদার গ্রামের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে, নিজের স্ত্রীকে (এসএসসি) মহিলা বিদ্যোৎসাহী সদস্য করেন।

এ ব্যাপারে অভিভাবকগণ ডিপিও মোহনলাল বাবু বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৬-৭ বার অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুকেশ রঞ্জন তালুকদার, শিবপুরের বাসিন্দা হিল্লোল সরকার, সুশীল তালুকদার, রাখাল দাশ প্রমুখ।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.