একজন কারাগারে অন্যজনের সনদ জাল, তবুও চাকরিতে বহাল ২ শিক্ষক

মেহেরপুরঃ বিধি অমান্য করে দুই শিক্ষক চাকরি করে যাচ্ছেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসায়। একজন কারাগারে, অন্যজনের জাল সনদ ধরা পড়ার এক বছর পার হলেও বহাল তবিয়তে বিদেশে বসে চাকরি করছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদের একজন জেলা জামায়াতের আমির ও মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক তাজউদ্দিন খান। অপরজন লাইব্রেরিয়ান খালিদ হাসান।

মাওলানা তাজউদ্দিন খানকে গত ১ নভেম্বর মুজিবনগর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে হাজত বাস করছেন। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আইনে ৯টি মামলা রয়েছে। সব মামলা আদালতে বিচারাধীন। তাজউদ্দিন খানের নামে অনেক মামলা চলমান থাকায় তাকে মাসের অনেক দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। একই সঙ্গে আদালতে হাজিরার দিনও তিনি মাদ্রাসাতেও হাজিরা দেন। এ নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিদিন যথানিয়মে মাদ্রাসায় হাজিরা দিলেও মাওলানা তাজউদ্দিন খান মামলার হাজিরা দেখিয়ে দুপুরের পর মাদ্রাসাতে এসে হাজিরা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, তাজউদ্দিন আদালতে হাজিরার দিনগুলোতে ছুটি নিতে পারতেন। একই ব্যক্তি একই দিনে দু জায়গায় হাজিরা দিতে পারেন না। তিনি গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে ২৩ মে পর্যন্ত কারাগারে হাজত বাসের কারণে ওই দুই মাস অনুপস্থিত থাকলেও তাকে বরখাস্ত করা হয়নি, এমনকি বেতনও কাটেননি অধ্যক্ষ। বর্তমানেও তিনি সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড করে নাশকতার মামলায় জেলে আছেন। কমিটির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গড়িমসি করছেন খোদ অধ্যক্ষ।

এদিকে জাল সনদ দিয়ে চাকরির বিষয়টি প্রমাণিত হলে বেতন না পেলেও মাঝে মাঝে মাদ্রাসায় যেতেন খালিদ হাসান। পরে চলে যান বিদেশে। তবুও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করতে পারেননি। জাল সনদে চাকরি পাওয়া খালিদ হাসান লাইব্রেরিয়ান পদে যোগদান করেছিলেন ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। যোগদানের পর বেতনের জন্য মাদ্রাসা বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেখানে তার সনদ যাচাই-বাছাই শেষে তার সনদ জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপরও তিনি মাদ্রাসায় যেতেন। মাস তিনেক আগে তিনি মালয়েশিয়া চলে গেছেন বলে জানা গেছে। দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করেনি এমনকি বরখাস্তও করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, অধ্যক্ষ ও পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে খালিদ হাসানের নিয়োগ হওয়াতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করছে না।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, পূর্বের কমিটি খালিদ হাসানকে নিয়োগ দেওয়ায় বর্তমান কমিটি তার নিয়োগ বাতিল করার ঝামেলা নিচ্ছে না। বিষয়টি তারা মানবিকভাবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, তাজ্উদ্দিন খান ইতিপূর্বে কারাগারে আটক থাকার কারণে তাকে দুইবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

গত বছর তিনি দুই মাস আটক থাকলেও সে সময় তাকে বরখাস্ত করা হয়নি বলে স্বীকার করেন। কেন করা হয়নি প্রশ্নের উত্তরে তিনি চুপ ছিলেন।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা বলেন, ‘মোটা অংকের টাকার লেনদেনে খালিদ হাসানের নিয়োগের কথাটি আমি শুনেছি। তার নিয়োগ আগের কমিটির সময়ে হওয়াতে বিষয়টি আমি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহল নই।’ মৌলভী তাজউদ্দিন খানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমি অধ্যক্ষের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত জেনে জানাব।’

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘বিষয় দুটি সম্পর্কে আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব। সনদ জাল হলে চাকরি থাকারই কথা না, বিদেশে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা পদত্যাগ করে যেতে হয়।’

তাজউদ্দিন খানের বিষয়ে শিক্ষা অফিসার বলেন, ‘চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কেউ গ্রেপ্তার হলেই সাসপেন্ড হবেন। ব্যত্যয় পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কালবেলা

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/১১/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.