আর কতদিন বেতন বিহীন থাকবেন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

নেত্রকোনাঃ জেলার মদন উপজেলার বালালী-বাঘমারা শাহজাহান কলেজ এমপিওভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীদের মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দীর্ঘ সময়ে কলেজটি এমপিও না হওয়ায় বর্তমানে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিবারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে কর্মরত থেকে বেতন না পেয়ে অর্থাভাবের মধ্যে অবসর নিয়েছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্ণেল শাহজাহান উদ্দিন ভূঁইয়া ১৯৯৮ সালে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০০ সালে পাঠদানের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ৮৫জন, দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩৩৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষসহ প্রভাষক ৯ জন ও কর্মচারী ৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ২০২২ সালে এমপিওভূক্তির জন্য আবেদন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রথম পর্যায়ে তালিকাভূক্ত হয়নি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভূক্ত করার জন্য আপীল করা হয়েছিল। সর্বশেষ বুধবার (১৭ অক্টোবর) ২০২৩ এ আপীল আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯১টি প্রতিষ্ঠানকে বিধি-২২ এর আলোকে সব শর্ত শিথিল করে এমপিওভূক্ত করা হলেও এ কলেজটি এমপিওভূক্ত করা হয়নি। এতে শিক্ষক ও কর্মচারীরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফখরউদ্দিন উদ্দিন আহম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমসহ অনেকেই জানান, কলেজটি হাওর অধ্যুষিত এলাকায় গড়ে উঠায় ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কলেজে কোনো তহবিল না থাকায় ও ব্যক্তিগত বা সরকারি-বেসরকারি কোনো অনুদান না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিকভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থে কলেজটি চালাতে হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াতে হয়। অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত এমপিওভূক্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।

কলেজ অধ্যক্ষ মামুন সিরাজুল কাদের বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সকল শর্ত পূরণ করেই আমরা এমপিওর জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। এতে অনেকে অবসর নিয়েছে। আবার কেউ মারাও গেছেন।

মদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী বলেন, অনুন্নত এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বালালী বাঘমারা শাহজাহান কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়া উচিত।

কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্তি না হওয়ায় কলেজটিকে ঠিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। কলেজের কোনো ফান্ড না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.