সীতাকুণ্ডে ভাঙা ঘরে ক্লাস করছে ২০০ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রামঃ জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বাকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত দুই বছর ধরে দুইশ শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা করছে।

দেখা যায়, মনে হবে গ্রাম বাংলার কোনো কাচারি ঘর। যেখানে এলোমেলো পড়ে আছে বাড়ির পুরনো ও অকেজো আসবাবপত্র, চেয়ার টেবিল ও চারপাশে ভাঙা বেড়া। টিনের চাল বেয়ে পড়ছে পানি। তবে কোনো পরিত্যক্ত ঘর নয়, এটি বাকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সীতাকুণ্ড থেকে সংবাদদাতা জানান, বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণকাজের জন্য অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয় টিনের চালাটি। দীর্ঘদিন নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায়, ভাঙা ঘরেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে শেষে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ৩ বছর হলেও এখনো নির্মাণকাজের ২০ শতাংশ শেষ হয়নি। নানা জটিলতায় আটকে আছে নির্মাণকাজ। একের পর এক ঠিকাদার পরিবর্তনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ৬টি পদে শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। তাদের পক্ষে পাঠদান অসম্ভব বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান। শিক্ষার্থীদের নেই কোনো স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিলের অভাবে ক্লাশে দাঁড়িয়ে থাকে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী। শিক্ষকদেরও নেই কোনো উপযুক্ত বসার স্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার এই স্কুলে শিক্ষার কোনো পরিবেশ নেই। গ্রামের শতশত শিক্ষার্থীর জীবন আজ হুমকির মুখে, এ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভবনের কাজ শেষ করে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, আমরা এক অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছি। কখন এ দুরবস্থা শেষ হয়ে স্কুলের নতুন ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে আমরা এমন প্রতিকূল পরিবেশেও নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছি।
শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে পার্শ¦বর্তী মাদ্রাসায় ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হোক এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরসফা বলেন, এ বিষয়ে এলজিআরডি প্রকৌশলী বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। অনেক অভিযোগ করেছি, কিন্তু কার্যকর হয়নি। বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে গেছে। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের অস্থায়ী ঘরটি মানসম্মত ও শিক্ষার পরিবেশবান্ধব হওয়ার কথা। কিন্তু তারা নিন্ম মানের বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি করাতে অল্পদিনেই ভেঙে যায়। আমাদের কোনো অভিযোগ তারা কর্ণপাত করে না। আমরা চাই দ্রুত শিক্ষার্থীরা নিজ আঙিনায় আসুক।

এলজিইডি কর্মকর্তা মনির হায়দার বলেন, জেলায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আশা করি, দ্রুত কাজ শুরু হবে।

নবনিযুক্ত উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এলজিআরডি কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করার কথা জানান তিনি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৪/০৯/২০২৩     

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.