চট্টগ্রামঃ জেলার পটিয়ার হিলচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালকের দপ্তরে এই বিভাগীয় মামলা রুজু হয়।
জানা যায়, নামমাত্র বেতনে কোনো প্রকার নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই পটিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা লাওয়ারখীল বেসরকারি বানেস্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন ফেরদৌস আরা বেগম। এক সময় এই বিদ্যালয়ে ১০/১৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। তখন ৫০০/১০০০ টাকা বেতনে ১-২ বছরের বেশি এই বিদ্যালয়ে কেউ শিক্ষকতা করতেন না। একটানা ওই স্কুলে থেকে যাওয়ায় ফেরদৌস আরা হয়ে যান এ বিদ্যালয়ের পুরোনো শিক্ষক। সে সুবাধে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তিনি বানেস্বর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। এরইমধ্যে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকার ২০১৩ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্ব স্ব অবস্থায় থাকা শিক্ষকদের সরকারীকরণ করলে কপাল খুলে যায় ফেরদৌস আরা বেগমের। সরকারি হওয়ার পর তিনি রশিদাবাদের এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে তদবির করে বদলি হয়ে চলে আসেন নিজ গ্রামের হিলচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
হিলচিয়া স্কুলে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে একাডেমিক অদক্ষতা, আর্থিক অনিয়ম, অসদাচরণসহ একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পাঠদানে অক্ষম ফেরদৌস আরা বেগমের নিজের হাতের ৯ লাইনের একটি বাংলা লেখায় প্রায় ১০ টি বানান ভুল করেন। পটিয়ার এমপি ও সংসদ হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এদিকে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা তার স্বামী নুরুল ইসলামের সঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে জড়ান। মাঠের মাঝখানে খুঁটি গেড়ে স্কুলের সম্পত্তি বেদখল করার কাজে স্বামীকে সহায়তা করাসহ তার বিরুদ্ধে স্বামী নুরুল ইসলামকে সভাপতি করে পছন্দমত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অপতৎপরতা চালানোরও অভিযোগ ওঠে।
প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগমের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিনকে প্রধান করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় উপ পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এই বিভাগীয় মামলা রুজু করেন। গত ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে তাকে ব্যক্তিগত শুনানী করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম মিন্টু জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের একটা নাম ডাক ছিল। ফেরদৌস আরা বেগম আসার পর থেকে স্কুলের লেখা পড়ার মান তলানিতে নেমে এসেছে। যিনি শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজি পড়াতে পারেন না, এমনকি যার বাংলা বানানে অহরহ ভুল থাকে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগম তার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে মিথ্যা দাবি করে জানান, আমাদের শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নেই। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু পেলেই দৌড়ে স্কুলে চলে আসে।
পটিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঋষি বিশ্বাস জানান,আমরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পেয়েছি। তাই আমাদের সুপারিশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরবর্তী একটি তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার শুনানি কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। আশা করি আগামী সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে রায় দেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
