সাইফুল ইসলাম শান্তি, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ পরী দেখার ইচ্ছা ছোট-বড় আমাদের সকলেরই রয়েছে। তবে পরী দেখার স্বপ্ন সারা জীবন স্বপ্ন হয়েই থেকে যায়। সেই স্বপ্ন কিছুটা হলেও পূরণ হবে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীতে ভ্রমন করতে আসলে।
নভেম্বরের মাঝামাঝিতে দেশের উত্তরে হালকা শীতের আমেজে বেশ জমে উঠেছে দিনাজপুরের এই স্বপ্নপুরী।
স্বপ্নপুরীতে প্রবেশ মুখেই আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য দুটি বিশাল আকৃতির পরী দু’ডানা প্রসারিত ও একহাত উঁচু করে সদা প্রস্তুত রয়েছে। গেট পেড়িয়ে পথের দু’ধারে চোখে পড়বে সারি সারি দেবদারু ও নারকেল গাছের সারি।
উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর কৃত্রিম ভ্রমণ স্পট হল স্বপ্নপুরী। যা দেশ বিদেশের দর্শনার্থী, পর্যটক, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। দিনাজপুর শহর থেকে ৫২ কিমি দক্ষিণে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে স্বপ্নপুরী অবস্থিত। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় ১০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে নান্দনিক সৌন্দর্যের বিনোদন জগত স্বপ্নপুরী।
কৃত্রিম লেক, পাহাড়, উদ্যান, বৈচিত্র্যপূর্ণ হরেক-রকম গাছগাছালি, ফুল ও সবুজের সমারোহ রয়েছে স্বপ্নপুরীতে। আরো আছে চিড়িয়াখানা, ঘোড়ার রথ, হংসরাজ সাম্পান, স্পীড বোর্ড, শালবাগান, খোলামঞ্চ, নামাজঘর।
স্বপ্নপুরীতে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন হঠাৎ দেখতে পাবেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা ঘাড় গুঁজে বসে থাকা কৃষক। তবে বাস্তবে নয় কিন্তু, সবগুলোই পাথরের তৈরি ভাস্কর্য। একাকী দাঁড়িয়ে আছে নারী, মাথা নিচু করে বসে আছে যুবক অথবা বিশালাকৃতির কচুপাতা।
স্বপ্নপুরী আছে কৃত্রিম ঝর্ণা । ঝর্ণার পানি গড়িয়ে একটি ছোট জলাশয়ে পড়ছে। লেকের পাশে রয়েছে ২৫০০ বর্গফুট বিস্তৃত বাংলাদেশের মানচিত্র, যা ইট-সিমেন্ট দিয়ে সুন্দরভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
এইখানে আরো দেখতে পাবেন কৃত্রিম পশু দুনিয়া। প্রবেশ পথে দুটি ড্রাগন সাদর সম্ভাষণ জানানোর জন্য প্রস্তুত। দেয়ালে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বন্য-প্রাণীদের প্রতিকৃতি। এরপর দুয়েক পা ফেলতেই চমকে উঠবেন, সামনেই পথ জুড়ে হাঁ করা এক নর-করোটি দেখে! এই নর-করোটির মুখের ভেতর দিয়েই মূল কৃত্রিম পশু দুনিয়ায় পৌঁছাতে হয়।
এছাড়াও সপ্নপুরীতে কেনাকাটার জন্য বাজার, খাবার জন্য রেস্টুরেন্ট আছে। রান্নার সহায়তার জন্য বিভিন্ন ধরনের চুলা, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার, টেবিলসহ ডেকোরেশনের সব জিনিস ভাড়া পাওয়া যায়। এখানে বনভোজন করতে আসা দর্শনার্থীরাই মূলত এইসব ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করেন।
স্বপ্নপুরীতে শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুপার্ক, রয়েছে দোলনা ও চরকিতে ঘোরার ব্যবস্থা। ঘোড়া ও সুদৃশ্য ঘোড়ার গাড়িতে উঠে ঘুরতেও পারবেন। ঘোড়ার গাড়ির উপরে রয়েছে সুদৃশ্য রঙিন ছাতা, যা চলার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরবে। আরও আছে ট্রেনে ও রোপওয়েতে উঠে ঘোরার ব্যবস্থা।
আপনি ইচ্ছা করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে কয়েকটা দিন আনন্দের সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন স্বপ্নপুরীতে। এ জন্য রয়েছে নিশিপদ্ম, নীলপরী, সন্ধ্যাতারা, রজনীগন্ধা মেঠোঘর এবং ভিআইপি কুঞ্জ নামের পাঁচটি মনোমুগ্ধকর বাংলো। অবসর যাপনের জন্য দর্শনার্থীদের এসব বাংলো ভাড়া দেওয়া হয়।
যেভাবে যাবেন: রাজধানী ঢাকা থেকে বাসে নবাবগঞ্জ অথবা ফুলবাড়ি নেমে স্বপ্নপুরীতে যাওয়া যায়। চাইলে দিনাজপুর থেকেও যেতে পারবেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
