বর্তমান এমপিও নীতিমালায় প্রতিটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা চাওয়া হয়েছে ৫০জন করে তাহলে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হয় ১৫০ জন । কিন্তু কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্থানে শহর অঞ্চলে বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ শিক্ষার্থী ও শুধুমাত্র বালিকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৮০জন শিক্ষার্থী । মফস্বল অঞ্চলে বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৫০ শিক্ষার্থী ও শুধুমাত্র বালিকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০জন শিক্ষার্থী প্রয়োজন লিপিবদ্ধ রয়েছে । নি¤œ মাধ্যমিকে ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখ নেই, যা এমপিও নীতিমালার একটি অসম্পুর্ন দিক । প্রথমে জানা প্রয়োজন কাম্য সংখ্যক কি ? কাম্য সংখ্যাটি মুল সংখ্যার চেয়ে কম না বেশিকে বুঝাবে ? যদি কোন একটি পরীক্ষায় কোন বিষয় ১০০ নম্বর হয় ঐ বিষয়ে সাধারণত পাশ মার্ক ৩৩ অথবা ৪০ সেক্ষেত্রে আমরা বুঝি কাম্য নম্বর হল ৩৩ অথবা ৪০। কিন্তু এমপিও নীতিমালার আলোকে বোঝা যায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষার কাম্য বা পাশ নম্বর হবে বালক ও সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহরের ক্ষেত্রে ১৩৩ ও মফস্বলের ক্ষেত্রে ১০০, বালিকা প্রতিষ্ঠানের শহরের ক্ষেত্রে ১১১ ও মফস্বলের ক্ষেত্রে ৮০।
নীতিমালায় বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহর অঞ্চলের নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ করে মোট ৩টি শ্রেণিতে ১৫০জন শিক্ষার্থী রাখা যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে শুধু বালিকা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ করে মোট ৩টি শ্রেণিতে ১৩৫জন শিক্ষার্থী রাখা প্রয়োজন। মফস্বলের বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ করে মোট ৩টি শ্রেণিতে ১২০জন শিক্ষার্থী ও শুধু বালিকা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ করে মোট ৩টি শ্রেণিতে ১০৫জন শিক্ষার্থী রাখা প্রয়োজন।
যেহেতু নীতিমালায় কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর সংখ্যার ক্ষেত্রে শহর, মফস্বল, বালক, বালক সহ সহশিক্ষা ও বালিকার সংখ্যার তারতম্য রয়েছে । সেক্ষেত্রে ৮ম শ্রেণি শেষে জে.এস.সি পরীক্ষায় কাম্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাশের সংখ্যার তারতম্য থাকা প্রয়োজন । বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহর অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রতিটি একক শ্রেণির শিক্ষার্থীর ৫০জনের বিপরীতে কাম্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রাখা ৩০জন ও পাশের সংখ্যা ১৮জন যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে শুধু বালিকা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি একক শ্রেণির শিক্ষার্থীর ৪৫ বিপরীতে কাম্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রাখা ২৭জন ও পাশের সংখ্যা ১৬ জন প্রয়োজন হবে। মফস্বলের বালক সহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর ৪০ জনের বিপরীতে কাম্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪ জন ও পাশের সংখ্যা ১৪জন ও শুধু বালিকা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি একক শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর ৩৫ বিপরীতে কাম্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২১জন ও পাশের সংখ্যা ১৩জন জন রাখা প্রয়োজন।
শহরের বালকসহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে কাম্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ জন হলে ২৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে । সর্বনি¤œ সংখ্যা ৯০ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে । জে.এস.সি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনি¤œ ৩০ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ২ জন পরিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ও পাশের সংখ্যা সর্বনি¤œ ১৮ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ৩.২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ।
শহরের বালিকা প্রতিষ্ঠানে নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে কাম্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৫ জন হলে ২৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে । সর্বনি¤œ সংখ্যা ৮০ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ৫.৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে । জে.এস.সি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনি¤œ ২৭ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ১.৮ জন পরিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ও পাশের সংখ্যা সর্বনি¤œ ১৬ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ২.৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ।
মফস্বলের বালকসহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে কাম্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০ জন হলে ২৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে । সর্বনিম্ন সংখ্যা ৭২ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ৪.৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে । জে.এস.সি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন ২৪ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ১.৬জন পরিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ও পাশের সংখ্যা সর্বনিম্ন১৪ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ২.৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ।
মফস্বলের বালিকা প্রতিষ্ঠানে নম্বর বন্টনের ক্ষেত্রে কাম্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৫ জন হলে ২৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে । সর্বনি¤œ সংখ্যা ৬৩ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ৪.২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে । জে.এস.সি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন ২১ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ১.৪ জন পরিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ও পাশের সংখ্যা সর্বনিম্ন ১৩ হলে ১৫ নম্বর প্রাপ্ত হবে, পরবর্তী প্রতি ২.২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ নম্বর করে প্রাপ্ত হবে ।
এখানে একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে কোন এমপিও বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ড কর্তৃক অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা যেন খোলা না হয় , কারণ এমনিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাম্য লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে পারছে না । তার উপরে যদি ১ বা ২ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে দ্বিগুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব করতে গিয়ে কোনটাই করতে পারছে না । এছাড়া এমপিও পাওয়ার ক্ষেত্রে ৪টি ক্যাটাগরি প্রত্যেকটিতে পৃথক পৃথক ভাবে ১৫ নম্বরে পাশের বিধান রাখা প্রয়োজন, যদি একটি বিষয়েও ১৫ নম্বর প্রাপ্ত না হয় তবে উক্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওর যোগ্য বলে বিবেচিত হবেনা ।
২০১৯ সনের সরকার এমপিও প্রদানের সময় ৭০ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সমুহকে এমপিও ভুক্ত করেছেন। বর্তমান এমপিও নীতিমালাটি কঠিন, অম্পুর্ন ও অস্পষ্ট থাকায় অনেকেই দুনীর্তির মাধ্যমে এমপিও ভুক্ত হয়েছেন । উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি এমপিও ভুক্ত করা হয়, তবে ৯০ নম্বরেও যদি এমপিও প্রদান করা হয়, তবে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে । কারণ সকল প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ হিসাব করে প্রাপ্ত নম্বর বাহির করতে পারবেন, কাঙ্খিত প্রাপ্ত নম্বর না থাকলে এমপিওর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনই করবেন না। ।
চলতি বছর ৯ বছর পর ২৭৩০টি প্রতিষ্ঠান এমপিও প্রদান করা হয়, তাওে দেখা যায় প্রতি বছর গড়ে ৩০৩টি প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হয়েছে । এখানে অনেকদিন পর এক সাথে এতগুলো প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত না করে প্রতি বছর গড়ে ১০০-২০০ প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত করতে প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে প্রতিযোগীতা বৃদ্ধি পেত ও দুনীতি অনেকাংশে কমে যেত । এছাড়া প্রতিবছর সকল স্তরের এমপিও এক সাথে না করে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান সমুহের এমপিও জে.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ২ মাস পরে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে আবেদন গ্রহন করা যেতে পারে, ফলে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে । এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান কোন নির্দিষ্ট একটি বছরে তাদের পরীক্ষার ফলাফল, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কাম্য সংখ্যক নাও থাকতে পারে , সেক্ষেত্রে সর্বশেষ তিন বছরের প্রাপ্ত নম্বরের গড় করে এমপিও প্রদানের ব্যবস্থা করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে ।
প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস
কলাম লেখক ও ট্রেড ইন্সট্রাক্টর
ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
পটুয়াখালী।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
