বিসিএস ক্যাডার হয়ে কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণ

কুমিল্লাঃ জেলার বরুড়ার সাইফুল ইসলাম ৪১তম বিসিএস (কর) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

কৃষক আব্দুল হাকিম ও গৃহিণী ফাতেমা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে সাইফুল পড়াশোনায় ছিলেন বেশ মনযোগী। তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা নিজ উপজেলাতে। গ্রামের আলো বাতাসে বড় হয়েছেন। শৈশব কেটেছে গ্রামের ৮-১০ জন শিশুর মতোই।

বাবা কৃষিকাজ করেই সংসার চালাতেন। পরিবার থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এরপর নিজ ইউনিয়নের (দক্ষিণ শিলমুড়ি) সুন্দরদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং আমড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমরাতলী সি আলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০১০ সালে কুমিল্লার মুরাদনগরে অবস্থিত অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসি এবং এমএসসি শেষ করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, যেকোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যই আনন্দ এনে দেয়। আমি আমার সৃষ্টিকর্তা এবং আমার প্রিয়জনদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার পরিবার সবসময়ই আমার পাশে ছিল। মা-বাবাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদের কষ্ট কাছ থেকে দেখেছি।

সাইফুল বলেন, কৃষক বাবা ও গৃহিণী মায়ের পরিশ্রম দেখে মনে হতো তাদের সমস্ত পরিশ্রমের পেছনে রয়েছে আমাদের যোগ্য করে গড়ে তোলার স্বপ্ন। এই অনুপ্রেরণাই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। তাদের ভালোবাসা এবং অনুপ্রেরণাতে আজ আমি বিসিএস ক্যাডার। বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বিসিএস নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু। স্নাতক সম্পন্ন করার পর মূলত পুরোপুরি বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন সাইফুল। বিসিএস যাত্রায় তার সহযোগী ছিল এক বন্ধু। দুজন মিলে একসঙ্গে আলোচনা করে পড়াশোনা করতেন। এ কারণে বিসিএস জার্নিটা কখনোই কষ্টকর মনে হয়নি তার কাছে।

সাইফুল বলেন, ৩৮তম বিসিএস আমার প্রথম বিসিএস পরীক্ষা ছিল। প্রথমবার বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে আইসিটি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছি। ৪০তম বিসিএসে নন ক্যাডার এবং ৪১তম বিসিএসে (কর) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে পাস করে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি।

শিক্ষা ক্যাডার থেকে কর ক্যাডারে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর ক্যাডারে আরও বৃহৎ পরিসরে অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ আছে। তাই এ ক্যাডার পছন্দের ক্যাডারগুলোর মধ্যে একটি। এজন্য এটি চয়েজ করে নিলাম।

সাইফুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিক থাকে, তবে নতুন প্রযুক্তি বা নতুন কিছুকে আমি সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখি। এই ইতিবাচকতাকে কাজে লাগিয়ে বিসিএস প্রস্তুতি আরও বেগবান করা যায়। বিসিএস জার্নিতে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং ভাগ্য তিনটিই প্রয়োজন। যাদের বেসিক ভালো তারা কিছুটা এগিয়ে থাকবে এ যাত্রায়।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সবসময় আমি ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত কাজটা সঠিকভাবে করবো। সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে চাই।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৪/০৮/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.