সেলিমা খাতুনঃ দেশে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। একদিকে উচ্চশিক্ষার জন্য যেমন একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে অনেক বেসরকারি বিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। গ্রামে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। রাজধানীতে অসংখ্য প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখা যায়। বিভাগীয়, জেলা শহরে সংখ্যায় কম হলেও কোনো কোনো উদ্যোক্তা এটি করছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। তারা যদি মান বজায় রেখে ভালো শিক্ষক নিয়োগ করে পাঠদান নিশ্চিত করতে পারে তাহলে দোষের কিছু নেই। বরং এখানে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। কিন্তু উদ্যোক্তারা যদি মান বজায় রাখতে না পারেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন, শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেন এবং শিক্ষার্থীদের থেকে গলাকাটা টিউশন ফি আদায় করেন তাহলে বলব, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াই উত্তম।
যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন শিক্ষক রচনা লিখতে বলতেন– বড় হয়ে কী হতে চাও এবং কেন? অনেকেই যখন ডাক্তার, প্রকৌশলী, জজ-ব্যারিস্টার হওয়ার কথা লিখেতেন; সেখানে আমি লিখতাম– বড় হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হব। কেননা আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একজন সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত মানুষই হতে পারে আদর্শ নাগরিক। যে দেশের নাগরিক যত বেশি সুশিক্ষিত, সেই দেশ তত বেশি উন্নত। দেশের প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিশুজীবনের গোড়াপত্তন যেমন হবে, পরবর্তী জীবনটা ঠিক তেমনি হবে। শিশুদের মায়ের ভালোবাসা, স্নেহ-আদর দিয়ে সুন্দর মানুষরূপে গড়ে তুলব। আজ আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমি ভালোভাবে অনুভব করি, আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে কতটা দখলে নিয়েছে।
আমি যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তা অবশ্যই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের; কিন্ডার গার্ডেন বা ইংরেজি মাধ্যমের নয়। যদিও আমাদের ছাত্রজীবনে এখনকার মতো বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছড়াছড়ি ছিল না। যারা আজ বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত, তাদের বড় অংশই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার হাতেখড়ি নিয়েছেন। অথচ এখন অনেক অভিভাবক বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন, বস্তির শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের সন্তান আচরণগত ত্রুটি নিয়ে বেড়ে উঠবে। বাস্তবতা হলো, শিক্ষক যদি সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন তাহলে সব শিশুই আদর্শ মানুষ হবে। বেসরকারি বিদ্যালয়ে অনেক টাকা খরচ করে পড়ানোর পরও কোনো কোনো শিশু অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবার ও বিদ্যালয়ের নৈতিক শিক্ষাই হচ্ছে আদর্শ শিক্ষার্থী গড়ার মূল হাতিয়ার।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক : মনাকষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
