ডা. অমৃত লাল হালদার।।
ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব সম্প্রতি জনজীবন একেবারে দুর্বিষহ করে তুলেছে। হাসপাতালগুলোয় রোগী আর রোগী। এসব রোগীর মধ্যে আবার রয়েছে শিশু এবং এদের কারও কারও বয়স একেবারেই কম। ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে রয়েছে নানারকম রকম ভুল ধারণা, যা প্রকৃতপক্ষে ভোগান্তি আরও একধাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন তা হলো ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন কিনা?
ধারণা এমন যে, শিশুর হয়তো ডেঙ্গুজ্বর হবে। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। মায়ের দুধের সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু শিশুর শরীরে যেতে পারে না। তবে শিশুটিকে যদি ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত মশা কামড় দেয়, তা হলে তার ডেঙ্গুজ্বর হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বর একটা ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে বা সঙ্গে থাকলে অথবা যত্ন করলে, একসঙ্গে খাবার খেলে তারও ডেঙ্গু হয়ে যাবে। তাই আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করে রাখা উচিতÑ এমন ধারণা আছে অনেকের মনে।
কিন্তু প্রকৃত সত্য এর ঠিক উল্টো। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে, একই বিছানায় ঘুমালে, একই তোয়ালে বা একই কাপড়চোপড় ব্যবহার করলে, একই গ্লাস বা প্লেট ব্যবহার করলে অন্যদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গ দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে ৬-৭ দিন পর্যন্ত মশার জন্য সংক্রামক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো এডিস মশকী কামড় দিলে সে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহক হয়ে পড়বে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে তখন আর এটি হবে না। তাই এ সময়ে আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতর রাখতে হবে। কোনোভাবেই মশারি না টাঙিয়ে ঘুমানো যাবে না।
কেউ কেউ মনে করেন একবার এই জ্বর হলে বাকি জীবন আর কখনো হবে না।
এই ধারণাও মোটে সত্য নয়। কারণ ভাইরাসের যে কোনো একটি প্রজাতি দিয়ে একবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ভবিষ্যতে ভাইরাসের সেই প্রজাতির মাধ্যমে আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ রোগীর আজীবন প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। তবে বাকি ৩টি প্রজাতির যে কোনো একটি দিয়ে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কেউ যদি পৃথকভাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি প্রজাতি দিয়ে জীবনে ৪ বার আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তা হলে বাকি জীবন আর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত নাও হতে পারেন, যা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বাতাসে ছড়ায় এমন ভাবনাও অনেকের ভেতরে রয়েছে।
আসলে শুধু ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশকীর কামড়েই কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। কাজেই বাতাসে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু উড়ে বেড়ানোর মোটেও কোনো সুযোগ নেই।
অনেকে আবার খাওয়ানোর ব্যপারে ভুল জানেন। ডেঙ্গু রোগীকে শুধুমাত্র স্যালাইন কিংবা শুধু তরল খাওয়ানো যাবেÑ ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। আসলে সবই খাওয়ানো যাবে। তবে তরল খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
লেখক : নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক, শিশু ও নবজাতক বিভাগ
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২, (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
