বান্দরবানঃ বান্দরবানে সরকারি বিদ্যালয়ে ঠিকমতো ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হচ্ছে না। ফলে অযত্নে পড়ে আছে যন্ত্রপাতিগুলো। ইতিমধ্যে অনেককিছু নষ্টও হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ায় বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারের নেওয়া ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রপাতিগুলো ধূলো ময়লায় পড়ে আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যমতে, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাসের ৩৬ শিক্ষার্থীকে ৩৬টি ট্যাব এবং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে ৩৩টি ট্যাব দেওয়া হয়েছিল সরকারি অর্থায়নে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরও দেয়া হয়েছিল ট্যাব। এছাড়াও গণিত ক্লাসে ব্যবহারের জন্য বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেওয়া ৩৫টি ট্যাব এবং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়া হয় ১০টি ট্যাব। ডিজিটাল ক্লাস রুম চালুর জন্য ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল যন্ত্রপাতি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ডিজিটাল ক্লাস রুম চালুর কথা থাকলেও ঠিকমতো ক্লাস হয় না। যন্ত্রপাতিগুলো অযন্তে অবহেলায় পড়ে আছে একটি কক্ষে। শিক্ষক না থাকায় জিনিসগুলো নষ্ট হচ্ছে ব্যবহারের অভাবে। কম্পিউটার ল্যাবের রুমটি সব সময় বন্ধই থাকে। তবে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিহির রঞ্জন বড়ুয়া ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হচ্ছে রুটিন অনুসারে। স্কুলের মধ্যে গণিত ক্লাসের জন্য দেয়া ট্যাবগুলো ক্লাসে ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে। ক্লাস শেষে স্কুলে সংরক্ষণ রাখা হয় আবারও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ক্লাসের জন্য দেয়া ট্যাবগুলোর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘরের মধ্যে ট্যাবগুলোর অপব্যবহার করছে। ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে বলা চলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপ্তি কণা ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্মৃতি কনা দে বলেন, আইসিটি শিক্ষকের নির্ধারিত কোনো পদ ও শিক্ষক নেই সরকারি বিদ্যালয়ে। তারপরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের দিয়ে রুটিন ক্লাসগুলো চালানো হচ্ছে তালি জড়ো দিয়ে। নির্ধারিত শিক্ষকের পদ না থাকায় জোর করে কাউকে বলাও যাচ্ছে না। এছাড়া বিদ্যুৎও থাকে না, তাই ঠিকমতো ক্লাস করাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
