জাতীয়করণ: নামাজের বিরতিকে আন্দোলনের বিরতি বলে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। প্রতিদিনের ন্যায় আজ দুপুরে নামাজের বিরতি দিয়ে নামাজ শেষে কর্মসূচী পূনরায় চালিয়ে যান আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তবে কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও নাম সর্বস্ব অনলাইন পত্রিকা এই বিরতিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের সাময়িক বিরতি বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

প্রতিদিনের মত আজ শনিবার দুপুরেও যহোরের নামাজের বিরতি দিয়ে নামাজ শেষে কর্মসূচী শুরু করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তবে এই বিরতি নামাজের হলেও তা আন্দোলনের বিরতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে অপপ্রচারে নেমেছে একটি গোষ্ঠী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) কেদ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, জাতীয়করণের একদফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। কেউ বিভ্রান্তিতে কান দিবেন না। আন্দোলন নস্যাৎ করতে একটি পক্ষ উঠে পরে লেগেছে। তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। নামাজের বিরতিকেও কেউ কেউ আন্দোলনের বিরতি বলে চালিয়ে দেবার অপচেষ্টা করছে।

এই শিক্ষক নেতা গুজবে কান না দিয়ে প্রেসক্লাবের আন্দোলনে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীকাল থেকে স্কুল খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও শিক্ষক সমাজ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্কুলে স্কুলে যে তালা ঝুলছে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খুলবে না।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বসেন শিক্ষক নেতারা। বৈঠক শেষে বিটিএ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, আমাদের দাবি একটাই, জাতীয়করণ। এর বাইরে আর কোনো কিছু আমরা চাই না। তবে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদের আন্দোলন চলবে। যতই হুমকি আসুক। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চাই। তার আগে ফিরে যাবো না। প্রয়োজনে প্রেসক্লাবে আমরণ অনশনে বসবো।

শিক্ষকরা বলছেন, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সরকারিকরণের দাবি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করছেন। কোনো নোটিশে তারা ফিরে যাবেন না। সরকারিকরণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকবেন।

এ বিষয়ে বিটিএর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের এক দফা ঘোষণা আশা করছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৫টা মিনিট বসতে চাই। তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারিকরণের ঘোষণা দিলে আমরা রাজপথ ছেড়ে দেবো। আর দাবি আদায়ে যে কয়দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থেকেছে সে কয়দিনের ছুটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করবো।

গত ১১ জুলাই থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিটিএ নেতারা। গত ১৬ জুলাই থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলানোর কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের দুই পাশে তারা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে প্রেসক্লাবের সামনে পল্টন থেকে কদম ফোয়ারাগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা শিক্ষকদের সড়কের একটি লেন ছেড়ে দিতে বলছেন।

অবস্থানরত শিক্ষকরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়েও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানদের থেকে এক ধাপ নিচে বেতন দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

তাছাড়া, বিগত কয়েক বছর যাবত অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.