নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনজন কর্মচারীকে অবৈধ পন্থায় যোগদান করাতে চাপ প্রয়োগ। সেই প্রস্তাতে রাজি হওয়ায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলীসহ অন্য শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি ও চাকরীচুত্য করার হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্কুলের শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এই সময় স্কুলের সকল শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক লিখিত বক্তবে তুলে ধরে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে ৩ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদ শূণ্য থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান ও সহকারী শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ দুইজন যোগ সাজসে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ দানের জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। সভাপতি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্তের আহ্বান করেন এতে ৩ টি পদে মোট ৪১ জন প্রার্থীর আবেদন বৈধ্য হলে নিয়োগ পরিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এরই মাঝে আমরা জানতে পারি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বানিজ্য করছেন। পরিক্ষা নেওয়ার আগেই তাদের মনোনিত ৩ প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে। আমি প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে অনৈতিক কর্মকান্ড জানার পর পরিক্ষা নিয়ে অনিহা প্রকাশ করি।
পরবর্তিতে সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা অফিসার মোঃ দুলাল আলম কে ম্যানেজ করে আমাকে মোবাইল ফোনে তার অফিসে ডেকে পাঠান। আমিসহ কয়েকজন উপস্থিত হলে সেই অফিসে শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে নিয়োগটি সম্পন্ন করতে চাপ সৃষ্টি করেন।
আমি তাতে রাজি না হলে শিক্ষা অফিসার সকলের সামনে বলে এমপির নির্দেশনায় কাজ করছি সবকিছু সমঝোতা করে প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে নিয়োগটি সম্পন্ন করে ফেলেন। নইলে আপনার চাকুরীর সমস্যা হবে এমপি যা নির্দেশ দিবে তা করতে বাধ্য হব তখন আর কিছু করার থাকবেনা।
আমি তখন চাপের মধ্যে নিজের চাকুরী বাচানোর জন্য রাজি হয়। আমরা জানতে পারি মোঃ আবুল কালাম আজাদ তিন প্রার্থীর নিকট হতে প্রায় ৩৪ লক্ষ পঞ্চশ হাজার টাকা নিয়েছেন যা এলাকার সর্বসাধারনের মুখে মুখে শুনাযায়। এছাড়াও বিদ্যালয়ে এক সভাশেষে শিক্ষকদের সামনে আবুল কালাম আজাদ নিজে টাকা নেওয়ার কথা বলেন।
গত ২১ জুন স্কুলের মিটিংয়ে স্কুলের উন্নয়ন বাবদ ৪ লাখ টাকা দিবে বলে সভাপতি সম্মতি প্রকাশ করে। গত ২২ জুন নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগ কমিটি “নিরাপত্তা কর্মী” পদে মোঃ জাহিদ আলী, “পরিচ্ছন্নতা কর্মী” মোঃ সেলিম রেজা, “আয়া” পদে শ্রীমতি আন্না মারান্ডীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
এরই মাঝে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান ও সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ নিজেই খাতা-কলমে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছাড়াই গত ৩জুলাই নিয়োগপত্র দিয়ে ৯ জুলাই তারিখে যোগদান দেখিয়ে প্রার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বলে। খাতা-কলমে একটি মিটিং দেখিয়ে নিয়োগ ও যোগদান করার কথা উল্লেখ করে, যাহা নিয়োম বহীর্ভূত। এতে আমি অসম্মতি জানালে সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ নিয়োগ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। আমি তাদের অবৈধ কাজে সম্মতি না দেওয়ায় চাকুরীচুত্য করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
তাদের এইসব কর্মকান্ডের মাঝেই সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখার জন্য সভাপতিকে নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহ আমাদের বেতনভাতা বন্ধ রেখে বলেন, নিয়োগের যোগদান সম্পন্ন করিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, শিক্ষক প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। সে নিজেকে এমপির প্রতিনিধির পরিচয়ে এবং এমপির সাথে সু-সম্পর্ক আছে এমন জাহির করে অনৈতিক কর্মকান্ড করে আসছে। বিভিন্ন মানুষের কাছে চাকুরী দেওয়ার নামকরে টাকা নিয়ে চাকুরী না দেওয়া এবং বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা থেকে সিসিবিভিও কর্তৃক যে কর্মকর্তা ছিল তারা বিজ্ঞান মেলার খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেন তাহাও তিনি আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের অনেক অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। এমনকি আবুল কালাম আজাদ তার নিজ শালিকার সাথে অবৈধ্য সম্পর্কে জড়িয়ে ধরা পড়ে জরিমানা দেওয়ার নজির আছে।
সে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সভাপতিকে হাতের মুঠই নিয়ে নিয়োগ বানিজ্য করার অপচেষ্ঠা ও আমাদের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। গত ১৯ জুলাই বিদ্যালয়ের সভায় সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ আবারও অবৈধ পন্থায় নিয়োগ যোগদান করার জন্য প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করে। আমরা শিক্ষকরা রাজি না হলে প্রাণনাশ সহ চাকুরীচুত করার হুমকি দিয়ে মিটিং থেকে চলে যায় এবং আমাকে চাঁদাবাজির মামলা দিব বলে হুমকি দেয় এছাড়াও পরবর্তিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে হাত-পা কেটে নিব বলেও হুমকি দেয়।
এমতাবস্থায় আমরা ১৪ জন শিক্ষক, কর্মচারী বিদ্যালয়ে যেতে নিজের প্রাননাশের হুমকি মনে করছি। যে কোন মুহুর্তে আমাদের উপর হামলা করে প্রাননাশ করতে পারে বলে মনে করছি।
সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সভাপতি বিভিন্ন জনকে দিয়ে মোবাইল ফোনে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে নানান ধরণের হুমকি প্রদান করছে। সভাপতি মতিউর রহমান ও সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের অবৈধ্য নিয়োগ যোগদান সম্পন্ন করতে প্রচন্ড চাপে আছি। আমরা সকলে এই বিষয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ষ্টি কামনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষক প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কোন শিক্ষককে কোন কিছুই বলিনি। হুমকি ধামকির বিষয়টি মিথ্যা। যে কেউ কোন অভিযোগ তুলতেই পারেন বলে জানান।
এই বিষয়ে স্কুলের সভাপতি মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বুধবার (১৯ জুলাই) স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভা ছিলো। সেখানে তিনজনকে যোগদান করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা বলেন, যে ভাবে যোগদান করাতে বলা হয়েছে তা বৈধ না। আমি তাদের যোগদান করাতে অনুরোধ করি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

