ফাইল ছবি

জাতীয়করণ নয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করতে আগস্টে ২ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবির প্রেক্ষিতে দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘এ দুই কমিটি আগস্ট মাসের শেষের দিকে গঠন করতে পারব। কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করে তাদের জীবন উন্নত করাসহ শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হয় সে লক্ষ্যে একটি কমিটি কাজ করবে। এসব কাজে সরকারের কী পরিমাণ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে তা নিরূপণের কাজ করবে দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মাধ্যমিক স্তরের আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয়করণ বিষয়ে অনেক ইস্যু আছে। দেশে বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, শিক্ষক নিয়োগে অনেক ভিন্নতা আছে। সরকারি-বেসরকারি, এমপিও-নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্যাডার-নন ক্যাডার শিক্ষক আছেন।

কিছু শিক্ষক পিএসসি থেকে আবার কিছু শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়ে থাকে। সবার যোগ্যতাও সমান নয়। বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা জাতীয়করণ ও সরকারীকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মধ্যে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে, বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে এমন একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বের করে আনতে হবে।

দিপু মনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্দোলন ছাড়াই শিক্ষকরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন।’

শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এলে সরকারকে চাপে ফেলতে সবাই আন্দোলনে নামতে চায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপশক্তিরা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। শিক্ষকদের জায়গা শ্রেণিকক্ষে, তারা রাস্তায় আসুক তা আমরা চাই না।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন জিম্মি করে কোনো আন্দোলন আমরা চাই না।’

গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালের যে ছুটি দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিনগুলো শীতকালীন ছুটির সঙ্গে যোগ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময়ের ছুটি ভোগ করতে পারবে। স্বল্প সময় শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করার লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নভেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম জোরদারভাবে চলবে। এ সময় শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রমুখ।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.