ঢাকাঃ একটি এতিমখানা স্থাপনের জন্য ২.৬ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে। একজন শিক্ষকের নামে আসা এই টাকা পেতে বিমানবন্দরে পরিশোধ করতে হবে ৬৫ হাজার টাকা। এই টাকা দেয়ার পর কয়েক দফায় চাওয়া হয় আরও টাকা। বিদেশি এসব মুদ্রা নিতে টাকা না দিলে অর্থপাচার আইনে মামলা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে এভাবে এক শিক্ষক হারিয়েছেন ৪ লাখ টাকা। পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২১ সালে এ ঘটনার পর রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
জানতে চাইলে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ গণমাধ্যমকে বলেন, চক্রটি একজন শিক্ষককে ফাঁদে ফেলে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে মামলাটির তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- মো. ইউসুফ সরকার (৩২), মো. সাইফুর রহমান মিঠু (৫৮), মো. আলাল হোসেন (২৭) ও এমদাদুল্লাহ (৩৫)।
পিবিআই ও ভুক্তভুগী ওই শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিন্থিয়া ফিলিপস নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে শিক্ষকের আইডিতে যুক্ত হয়। এরপর আফগানস্থানের কাবুলে কর্মরত মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে শিক্ষকের সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতা চলতে থাকে। পরে তার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি এতিমখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেন এবং নিজেই সেখানে দানের কথা জানান। পরে ওই শিক্ষক সরল বিশ্বাসে রাজি হয়ে যান। তবে তাকে বিষয়টি গোপন রাখার শর্ত জানিয়ে দেয়া হয়।
পরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এআরও এম কে আজাদ পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানায় তার নামে একটি পার্সেল আছে। এই পার্সেল নিতে হলে তাকে এয়ারপোর্ট ক্লিয়ারেন্স ফি বাবদ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। তার কথা মতো একটি বেসরকারি ব্যাংকের হিসাব নম্বরে ৬৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্ত ওই পার্সেল তার কাছে যায়নি।
এরপর শিক্ষককে আবারও ফোন করে ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। এভাবে কয়েকবার টাকা টাকা চাওয়ায় তিনি দিতে না চাইলে চক্রটি তাকে ভয় দেখায়। চক্রের সদস্যরা বলতে থাকেন, তাদের দাবি করা টাকা পরিশোধ করে এই পার্সেল না নিয়ে গেলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা দায়ের করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এরপর তিনি কয়েক দফায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা দেন।
চক্রটি পার্সেল ডেলিভারির কপি পাঠায় কিন্ত তার ঠিকানায় পার্সেল না আসার আবার যোগাযোগ করেন। এরপর রামপুরার একটি ঠিকানা পাঠিয়ে সেখানে গিয়ে নিতে বলেন। তাদের কথামতো শিক্ষক ওই এলাকায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে বুঝতে পারেন এটি ছিল প্রতারণা।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষক বলেন, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী। তাদের সাথে কথা বলার সময় বুঝার সুযোগ ছিল না এটি প্রতারণা। এ ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এ জন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাইফুর রহমান মিঠু ও তার দুই সহযোগী আলাল হোসেন ও ইউসুফ সরকারকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অপরাধের বিষয় স্বীকার করেন।
এছাড়াও পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির প্রধান সাইফুর রহমান মিঠু জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নানা অপকৌশল করেন। তারা গরীব ও অর্থহীন লোকজনকে টাকার লোভ দেখিয়ে তাদেকে দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট চালু করায়। এরপর তাদের নামে করা এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া টাকা উত্তোলন করে।
এছাড়াও এ ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি এমদাদুল্লাহকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৮/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
