ঝিনাইদহঃ জেলার কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় সহপাঠীদের সামনে দুই ছাত্রকে নাকে খত দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি নওদাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
নাকে খত দেওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জানায়, অন্য দিনের মতো বুধবার সে স্কুলে যায়। স্কুলে যাওয়ার পর রিফাত নামের এক বন্ধু তাকে রিডিং পড়তে বলে। রিডিং পড়ার পর তার বন্ধু তাকে বলে তুই রিডিং পড়তে পারিস না। তুই একটা পাগল। এরপর সে স্কেল দিয়ে বাড়ি দেয়। এরপর সে রিফাতকে একটি চড় মারে। এরপর রিফাত প্রধান শিক্ষকের কাছে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক তাকে ডাক দেয়। যাওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষক তার সহপাঠীদের ডাক দিতে বলে। সহপাঠীরা আসার পর প্রধান শিক্ষক তাকে বলেন নাকে খত না দিলে সবাইকে মারব। এরপর সে ভয়ে সবার সামনে নাকে খত দেয়। এ সময় ৭ম শ্রেণির আরও এক শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের সামনে নাকে খত দিতে বলেন প্রধান শিক্ষক।
সে আরও জানায়, আমি আর ওই স্কুলে যাব না। কিভাবে লজ্জায় সহপাঠীদের সামনে মুখ দেখাব।
ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রের বাবা ও বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সহপাঠীদের সামনে নাকে খত দেওয়ানো এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অন্যভাবে শাসন করতে পারতেন। তার ছেলে আর ওই স্কুলে পড়তে চাই না। তিনি এখন সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম নাকে খত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, অন্যভাবে শাসন করা হয়েছে। কাউকে নাকে খত দেওয়ানো হয়নি।
ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, কোনো শিক্ষার্থীকে মানসিক কষ্ট দেওয়া যাবে না। নাকে খত দেওয়ানোর তো প্রশ্নই আসে না। লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৬/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
