ঢাকাঃ বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ আসায় রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।
এর আগে ডিআইএ’র অপর এক তদন্তেই সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ পায়। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মনিপুর স্কুল থেকে ৭ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা বোর্ডের নির্দেশনা না মানায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হলে তিনি বোর্ডের কাছে লিখিত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান। তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা, বিভিন্ন কেনাকাটায় বড় অংকের কমিশন আদায়, নিজের লোক দিয়ে স্কুলের কাজ করিয়ে ইচ্ছেমতো বিল আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার স্লিপে সাক্ষর না করায় শিক্ষক- কর্মচারিরা বেতন তুলতে পারছেন না বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব নানা অভিযোগের ব্যাপারে তদন্তের জন্য গত ৯ মে প্রতিষ্ঠান ডিআইএ’কে চিঠি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষ বোর্ড। ডিআই ইতিমধ্যে তদন্ত শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালে সাবেক অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের বয়স শেষ হলেও তিনি বিধি মোতাবেক চাকরি না ছাড়ায় হাইকোর্ট ডিভিশনের রায়ের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক জাকির হোসেনকে দায়িত্ব দেয় মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বিদ্যালয়ের অ্যডহক কমিটির সভাপতিকে দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নির্ধারিত তিন কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো পুরো স্কুলেই ৫ দিনের ছুটি দেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, এ সভাপতির স্কুল ছুটি দেওয়ার কোনো এখতিয়ারই নেই। বিষয়টির জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় ঢাকা বোর্ড। না জেনে তিনি এমন করেছেন উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান।
এর আগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে অবৈধভাবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়। কাজ না করেও বিল পরিশোধের প্রমাণ পেয়েছিল সরকারি এ সংস্থা। তখনও সভাপতি ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি ও গভর্নিং বডির সদস্যরা গত ৫ বছর অবৈধভাবে সম্মানি বাবদ ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৪ টাকা নিয়েছিলেন।
ঢাকা বোর্ডে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এমপিওভুক্ত। কিন্তু বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা তুলতে দেন না। বেতন স্লিপে তিনি সাক্ষর করেন না। অথচ বর্তমান সভাপতি বা তার পরিচিতদের নিয়ে এ মনিপুর স্কুলকে নিজেদের নামে ট্রাস্ট গঠনে অপচেষ্টায় করছেন। এ ক্ষেত্রে আদালতের রায়ও উপেক্ষা করছেন। শিক্ষকদের অনিচ্ছা থাকার পরও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাক্ষর এমপিওভুক্তি থেকে পদত্যাগ করানো হয়। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পদত্যাগ পত্রে সাক্ষর না করলে চাকরিচ্যুতিরও ভয় দেখিয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় স্কুলে বিভিন্ন কোম্পানির দ্বারা কাজ করিয়ে বাজার দরের থেকে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে।
এছাড়া সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। শিক্ষকের বেতন তুলতে না দেওয়া, আদালতে তথ্য গোপন করা, স্কুলকে ট্রাস্ট করার চেষ্টা, আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনসহ নানা বিষয়ে যাচাই করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য মাউশিতে জমা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মনিপুর স্কুলের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দেলোয়ার হোসেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনকে দিয়ে নানা অনিয়ম করানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে জাকির হোসেন রাজি না হওয়ায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা আশংকা করেছেন, জাকির হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য নানা অপকৌশল করছেন তিনি। এমনকি শোকজের পর জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাও করেছেন সভাপতি।
তবে ঢাকা শিক্ষ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। এর বাইরে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত বা নিয়োগ দেওয়ার কোন এখতিয়ার সভাপতির নেই।’
নানা অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা ধরেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
