প্রযুক্তিতে পিছিয়ে, উচ্চশিক্ষায় অবহেলিত বাংলা ভাষা

নিউজ ডেস্ক।।

সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’ ওই অনুচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন চালু করা হয়। এ আইনের ২ ও ৩(১) ধারায় বলা আছে, কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি বা অকার্যকর গণ্য করা হবে। ৩ ধারায় বলা আছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আইনে কারো শাস্তি দূরের কথা, কাউকে আইনটি মানতে বাধ্য করা হয়নি। বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে, আদালতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার চলছে। অন্যদিকে ইংরেজি-ফরাসি-হিন্দির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে বাংলা। নেই প্রমিত বাংলার চর্চা। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে এক জগাখিচুড়ি ভাষার চর্চা চলছে যত্রতত্র। এজন্য ৫০ বছরেও ভাষানীতি না হওয়াকেই দায়ী করছেন তারা।

গবেষকদের মতে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়, বিশ্ববাঙালি সত্যজিৎ রায়ের অস্কার পুরস্কার, বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের বোসন কণা, আচার্য জগদীশ বসুর গাছের প্রাণ আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে বাঙালিকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব প্রাপ্তির ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় অর্জন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ভাষার জন্য রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে বাঙালিরা সারা বিশ্বে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর ধারাবাহিকতায় একাত্তরে বিজয় অর্জন, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি।

তবে ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর আর বিজয়ের ৫০ বছর পরও ভাষানীতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গবেষকরা। তাদের মতে, ভাষানীতির অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রমিত বাংলা। স্বপ্নই রয়ে গেছে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর স্বপ্ন। হুমকির মুখে ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর ভাষা। এ ব্যাপারে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ভোরের কাগজকে বলেন, বায়ান্নতে আমাদের স্লোগান ছিল, ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চালু করো।’ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর স্বপ্ন এখনো সফল হয়নি। উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তরা নানাভাবে ইংরেজি চালু রেখেছে, কিন্তু রাষ্ট্রভাষা বাংলা সর্বস্তরে চালু হয়নি।

উচ্চশিক্ষায় অবহেলিত বাংলা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিকবার তাগিদ সত্তে¡ও উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ দেয়ার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। সর্বোচ্চ আদালতের প্রায় সব কার্যক্রম চলে ইংরেজিতে। বাংলায় প্রেসক্রিপশন লেখা হয় না। বাংলায় কোনো বাণিজ্যিক ও ক‚টনৈতিক চিঠি লেখা হয় না। গবেষকদের মতে, বাংলাকে ব্যবহারিক ভাষা করে তুলতে না পারলে এই ভাষা শুধু সাহিত্যের ভাষা হয়ে থাকবে। ইংরেজি, ফরাসি ইত্যাদি ভাষার মতো বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাচর্চার ভাষা করে তুলতে হবে। বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষাদানের জন্য গবেষণার পাশাপাশি আন্দোলনও দরকার। এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পুস্তক বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক কেয়া বালা ভোরের কাগজকে বলেন, নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান মাতৃভাষায়। কিছু প্রতিশব্দ বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি রাখা হয়েছে। অনেক প্রতিশব্দ বাংলায় নেই। সেক্ষেত্রে প্রচলিত শব্দগুলো নেয়া যেতে পারে। এখন আমরা যদি অক্সিজেনকে বাংলায় অ¤øজান বলি, তাহলে মানুষ এটিকে নেবে না। এজন্য সহজ প্রতিশব্দ দরকার।

তিনি বলেন, শিক্ষার সব দরজা খোলা থাকবে কিন্তু চর্চাটা হতে হবে মাতৃভাষায়। বিজ্ঞান ও কারিগরি চর্চার নতুন নতুন শব্দ আহরণ করতে হবে। বাংলা ভাষাকে বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থ রচনার উপযোগী করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে লেখক-সাহিত্যিকদের দায়বদ্ধতাও রয়েছে।

প্রযুক্তিতে পিছিয়ে বাংলা ভাষা : গবেষকদের মতে, প্রযুক্তির যুগে বাংলাকেও আধুনিক প্রযুক্তির ভাষা হতে হবে। বাংলা ভাষা এদিক দিয়ে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতির যুগে পিছিয়ে যাচ্ছে রক্তে কেনা এই ভাষা। সময়ের অতি প্রয়োজনীয় কিছু টুলস, যেমন- স্বয়ংক্রিয় চ্যাটবট, ভার্চুয়াল সহকারী, স্বয়ংক্রিয় পাঠক, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদক, কথা থেকে লেখা, লেখা থেকে কথা- এগুলো এখন পর্যন্ত বাংলা ভাষার জন্য ভালো মানের পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের নিজেদের কাছেই এই ভাষার ব্যবহার এবং গুরুত্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং সঙ্গে ৩০ কোটি মানুষের এ ভাষা সর্বজনীন হচ্ছে না। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বাংলা ভাষার ব্যবহার প্রযুক্তিতে বাড়াতে ১৬৯ কোটি টাকায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বায়নে বাংলা ভাষা : বাংলা ভাষায় এখন বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি লোক কথা বলে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাভাষীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১ কোটি ৬০ লাখ। এই অনুমান পরিসংখ্যানবিদদের। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা বলেন ইংরেজি ভাষায়। ভাষা নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ইথনোলগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ কথা বলেন এই ভাষায়। মাতৃভাষা হিসেবে ইংরেজির অবস্থান তৃতীয়। মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বভাষা তালিকায় বাংলার অবস্থান পঞ্চম এবং বহুল ব্যবহৃত ভাষা হিসেবে এর অবস্থান সপ্তম। বহুল ব্যবহৃত ভাষার তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মান্দারিন (চীনা), হিন্দি, স্প্যানিশ ও ফরাসি।

ভাষার প্রতি আরো যতœশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ভাষাবিদ ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর ভোরের কাগজকে বলেন, বিশ্বয়নের যুগে ব্যাপক হুমকির মুখে বাংলা ভাষা। অথচ সংশ্লিষ্টরা শীতনিদ্রা যাপন করছেন। বিশ্বায়নের যুগে যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। ইংরেজি ও চায়নিজ ভাষার কাছে মার খাচ্ছে। দলে দলে শিক্ষার্থী চীন যাচ্ছে। সেখানে মান্দারিন শিখছে। চীনারা ভাষা নিয়ে বাণিজ্য করছে। তারা এগিয়ে যাচ্ছে। ভাষাকে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারলে ভাষা হুমকির মুখে পড়ে তার উদাহরণ বাংলা ভাষা। মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। তাদের অর্জনটা কী?

এদিকে বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আন্দামান-নিকোবর, ধানবাদ, মানভ‚ম, সাঁওতাল পরগণা প্রভৃতি এলাকায়ও বাংলার প্রচলন রয়েছে। নেপাল, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইতালি ইত্যাদি দেশে বিপুল পরিমাণ বাংলাভাষী প্রবাসী রয়েছেন। একসময় শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় গবেষণাকর্ম পরিচালিত হতো। বর্তমানে নিউইয়র্ক, ইথাকা, শিকাগো, মিনেসোটা, ফ্লোরিডা, মেরিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপান, চীন, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার গবেষণাকেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশের রাষ্ট্রীয় বেতারে বাংলা ভাষার আলাদা চ্যানেল রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৬টি ও যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন ও বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। বাংলা ভাষায় যুক্তরাজ্য থেকে মোট ১২টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়। বেতার বাংলা নামে সেখানে একটি বাংলা বেতার স্টেশন রয়েছে।

দেশের বাইরে বাংলা ভাষার চর্চা বেড়েছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার ভোরের কাগজকে বলেন, বিশ্ববাজার কিংবা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাংলা ভাষা মোটেই হুমকির মুখে নয়। বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং পারিবারিকভাবে বাংলাকে গুরুত্ব দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, আগে মাতৃভাষা, পরে অন্য ভাষা। এটিই সত্য।

এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমির গবেষণা উপবিভাগের উপপরিচালক ড. তপন বাগচী ভোরের কাগজকে বলেন, বিশ্বায়নের সঙ্গে বাংলা ভাষা হুমকির মুখে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বায়নের ফলে ভাষাকে জীবন্ত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বায়ান্নতে শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মানেই বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার দিবস। বিশ্বায়নের ফলেই এই গৌরব অর্জনের সুযোগ হয়েছে। এখন বিশ্বের বুক থেকে বাংলা ভাষাকে হারানোর আর সুযোগ নেই।

বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য বাংলা একাডেমির উদ্যোগগুলো কী কী- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তপন বাগচী বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল আমাদের বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠালগ্নে থেকে বাংলা একাডেমি যেসব কাজ করে চলছে, তা হলো জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, লালন ও প্রসার; বাংলা ভাষার প্রামাণ্য অভিধান, পরিভাষা ও ব্যাকরণ রচনা, রেফারেন্স গ্রন্থ, গ্রন্থপঞ্জি এবং বিশ্বকোষ প্রণয়ন, প্রকাশন ও সহজলভ্যকরণ; বাংলা শব্দের প্রমিত বানান ও উচ্চারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানো, বাংলা ভাষায় উচ্চতর পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক রচনা ও গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বাংলা সাহিত্যকর্মের অনুবাদ, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী তথা সব পর্যায়ের গণকর্মচারীদের বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন, বাংলা বানানরীতি ও ব্যবহার সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা, সাহিত্য পুরস্কার দেয়া, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন এবং ফেলো, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা বহির্বিশ্বে প্রচার ও পরিচিতকরণের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষার সেবা করে চলছে।

ভাষানীতি কত দূর : বিজয়ের ৫০ বছরেও হয়নি ভাষানীতি। ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও উচ্চ আদালত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোয় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষাকে গুরুত্বহীন করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব পাচ্ছে ইংরেজি ও আরবি ভাষা। আবার বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিই প্রণীত হয়েছে সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায়। একইভাবে ভাষানীতি না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা।

জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ভাষানীতি এখনো হয়নি। কেউ কাজ করছে না। নীরদ সি চৌধুরী বলেছিলেন ‘আত্মঘাতী বাঙালি’। আমরা সেই আত্মঘাতী বাঙালি। অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার বলেন, এখনো ভাষানীতি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মিয়ানমারে ভাষা কমিশন রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পরও আমরা ভাষানীতি করতে পারিনি। এটি আমাদের ব্যর্থতা। ভাষানীতি হলে ভাষার প্রতি সবাই যত্নশীল হবে, ভাষা নিয়ে গবেষণা বাড়বে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.