শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজে শুরুতেই ‘হোঁচট’

নিউজ ডেস্ক।। 

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন প্রতিষ্ঠানে কতটুকু জমি ও কতসংখ্যক গাছের চারা প্রয়োজন, তার তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো তথ্য পাঠানো হয়নি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য এলেও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করে গাছের চারা পাঠাতে দেড়-দুই মাস সময় লাগতে পারে। জুন-জুলাই মাসই মূলত গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। সেজন্য মে মাসের মধ্যে চাহিদা নিয়ে জুনের মাঝামাঝি থেকে চারা পাঠানোর কাজ শুরু করতে চেয়েছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু তথ্য না আসায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, এক দফা নির্দেশনা দিয়ে চাহিদা না পেয়ে পুনরায় তথ্য পাঠাতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৪ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের মূল চিঠি সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, বৃক্ষরোপণের তথ্য চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ৬ মের চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১০ মার্চ আগামী ৫ বছরে ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত সময়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা ও কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সংযুক্ত ছক অনুযায়ী তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। পরবর্তীতে এ কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বৃক্ষগুলো কোন জায়গায় রোপণ করা হবে, জমির তফসিলসহ তার তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাওয়া যায়নি।

‘এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষগুলো কোন জায়গায় রোপণ করা হবে, সেসব জমির তফসিলসহ তার তথ্য (জমির তথ্য কলাম ৯ অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীর নিজ বাড়ি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংস্থান) পাঠানো নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশক্রমে ফের বলা হলো।’

জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘মার্চে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাতে তেমন সাড়া মেলেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুনরায় তথ্য ও বৃক্ষের চাহিদা পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এবার সব প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুতই তথ্য পাওয়া যাবে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.