নিজস্ব প্রতিবেদক।।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। একবারও প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছিল শিক্ষার্থীরা। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে ওঠার চেষ্টায় ছিল শিক্ষার্থীরা। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও হয়েছিল। কিন্তু করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে জানুয়ারির শুরু থেকে দেশে আবার সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করলে গত ২১ জানুয়ারি দেশের সব স্কুল, কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও একই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কিনা তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপরে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফলে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আজ তারা একটি মানববন্ধনও করেছেন। মানববন্ধনে তারা বলেছেন, গত ২০২০ ও ২০২১ সালে ১৮ মাস ধরে বন্ধ ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সারাদেশে বাল্যবিবাহের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ছে। অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার জন্যে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের সাথে কিংবা লেখাপড়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার বদলে শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল মাদক পাবজি গেমস ও ফ্রি ফায়ার গেমসসহ ইন্টারনেটের ক্ষতিকর অ্যাপসগুলোতে আসক্ত হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মা-বাবা পরিবার পরিজনদের প্রতি মমত্ববোধের পরিবর্তে অসহিষ্ণু ও উগ্র আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কিশোর-কিশোরীরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে বাস্তব যোগাযোগ বন্ধ থাকার কারণে মেধা শূন্য প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িয়ে ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে বেড়ে উঠছে বিপুল সংখ্যক কিশোর শিক্ষার্থী। ফেসবুকের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা কিশোর বয়সেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা ভালো কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে না পেরে পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষক ও শিক্ষালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধান থেকে বঞ্চিত হয়ে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাড়ায় মহল্লায় অসৎ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ৪ মাস না যেতেই আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাশা দেখা দিয়েছে। এর ফলে অভিভাবকরাও হতাশ। শিক্ষা একটি জাতির মেরুদন্ড। এতো দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ সরে গেছে। ফলে তারা বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সরকার যে কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছে তার তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সব কিছু খোলা রেখে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা। তাই সরকারের উচিৎ হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অতিসত্বর দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া। এতে করে নৈতিক অবক্ষয় থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা সম্ভব।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
