এইমাত্র পাওয়া

স্কুলে সুযোগ পেলেও ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

অনলাইনে ভর্তির আবেদন করে লটারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কাক্সিক্ষত শ্রেণিতে ভর্তি হতে না পারার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন করেছে নোয়াখালী জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

‘সরকারি স্কুলে লটারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভর্তি নয় কেন? আমাদের বাচ্চাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করুন’ এ সেøাগানে অভিভাবকবৃন্দের ব্যানারে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গতকাল বুধবার দুপুরে এ

কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অভিভাবকরা জানান, গত নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে অনুসারে গত ২৫ নভেম্বর বেলা ১১টা থেকে সুযোগ দেওয়া হয় শুধু অনলাইনে আবেদনের। গত ৮ ডিসেম্বর বিকাল ৫টায় শেষ হয় আবেদন প্রক্রিয়া। প্রতি আবেদনকারী একই বিভাগের পছন্দ ক্রমনুসারে সর্বাধিক ৫টি বিদ্যালয় নির্বাচন করে। ১৫ ডিসেম্বর বিদ্যালয়গুলোয় লটারি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি ১০ বছরের নিচে কোনো শিক্ষার্থী আবেদন বা ভর্তি হতে পারবে না। কিন্তু লটারি শেষ হওয়ার পর এখন ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের বয়স কম, জন্মনিবন্ধন ও আবেদনে গ্রাম/ওয়ার্ডের তথ্য ভুল দেখিয়ে ভর্তি নিচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম চৌধুরী উজ্জল বলেন, তার মেয়ে জান্নাত নূর সদর উপজেলার করুমুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণি পাসের পর অনলাইনে ভর্তির জন্য নোয়াখালী সরকারি গালর্স স্কুলে আবেদন করে। আবেদনে বি ইউনিটে ১৭ নম্বর সিরিয়ালে উত্তীর্ণ হয় সে। বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার (টিসি) নিয়ে গালর্স স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য গেলে জন্মনিবন্ধনে তার বয়স ১০ বছর হতে ৫ দিন বাকি আছে কারণ দেখিয়ে ভর্তি নেওয়া হয়নি। আগের বিদ্যালয় থেকে টিসি নিয়ে আসার কারণে যেখানে উত্তীর্ণ হয়েছে সেখানে ভর্তি হতে না পারলে তার মেয়ে শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর পিছিয়ে যাবে। তাই তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে মেয়ের ভর্তির জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন।

অভিভাবক সারমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বয়স এবং ওয়ার্ডের বিষয়টি উল্লেখ না করে এখন ভর্তির সময় এসব কারণ দেখিয়ে শিশুদের ভর্তি না নেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। বয়সসীমা নির্ধারণ না করে কেন সরকারিভাবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে? কেন বা ওইসব শিক্ষার্থীদের ফল দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিল।

তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে সৈয়দা আফরা ইয়াছমিনের জন্মনিবন্ধনে চৌমুহনী পৌরসভার ওয়ার্ড নং৩ দেওয়া আছে। কিন্তু আবেদন করার সময় ভুলবসত তা ৪নং ওয়ার্ড উল্লেখ করায় তাকে এখন ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থী মো. ওয়াছিয়ান বলেন, ‘ভর্তি লটারিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর জন্মনিবন্ধনে মাত্র কয়েকদিন বয়স কম থাকায় আমাকে ভর্তি নিচ্ছে না। এখানে আমার অপরাধ কোথায়, কেন আমাকে ভর্তি করানো হবে না? ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, সরকারিভাবে ভর্তিইচ্ছুকদের বয়স নির্ধারণ করা আছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের বয়স ৬ বছর হতে হবে। সে হিসাবে ২য় হতে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণ হবে। ভর্তির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় নির্ধারণ করবে। ভর্তিসংক্রান্ত সব বিষয় বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.